মুরতুজ আলম,সামসী: বাড়ির অনুষ্ঠানের জন্য ডিঙি নৌকায় চেপে নদী পেরিয়ে চিনি কিনতে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। ফেরার সময় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাঁতার কেটেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হল না তাঁর। মাঝপথে নদীতে ডুবেই মৃত্যু হয় পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তির। মৃত ব্যক্তির নাম মনসুর আলি(৫০), বাড়ি হোসেনপুর গ্রামে। মৃতের পরিবার সহ স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পাকা সেতু না থাকার কারণেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি হল মনসুরের। সোমবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে মনসুরের স্ত্রী জেলেখা বিবি বলেন, ‘সোমবার বাড়িতে একটা সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল।তাই রবিবার সন্ধ্যায় স্বামী বাজার করতে গিয়েছিল। বাড়ি ফিরতে দেরি হয়।নদীতে সাঁতার কেটেই আসছিল।এইভাবে স্বামী চলে যাবে ভাবতে পারিনি। স্বামীর অবর্তমানে তার সংসার কিভাবে চলবে তা ভেবেই পাচ্ছিনা।’
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ আলি বলেন, ’মহানন্দা নদীর ওপর পাকা সেতু না থাকায় এলাকার বাসিন্দাদের হাট,বাজার যেতে দ্বিগুন সময় লাগে। সেতু না থাকায় স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা পড়ুয়ারা ভীষণ সমস্যায় পড়েন। সেতু না থাকায় এলাকার ব্যবসায়িক মহলও ক্ষুব্ধ। এদিকে সেতুর অভাবে হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা। তাই এলাকার সবার কথা ভেবে প্রশাসনিক উদ্যোগে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মিত হোক এমনটা সবাই চাইছেন।’
মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সির কাছে এব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনিও হুসেনপুর ঘাটে মহানন্দা নদীর ওপর এলাকাবাসীদের পাকা সেতুর দাবিটিকে সমর্থন জুগিয়ে জানান, বিষয়টি তিনি বিধানসভায় উত্থাপন করবেন। তাছাড়া আলাদা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকেও তিনি বিষয়টি জানাবেন যাতে এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এলাকায় পাকা সেতু নির্মিত হয়।
