শালকুমারহাট: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন শালকুমারহাটের গ্রামে (Salkumarhat) মাঝেমধ্যেই হাতি, গণ্ডার বা বাইসনের দেখা মেলে। কিন্তু রবিবার সকালে শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জলদাপাড়া গ্রামে দেখা মিলল এক সম্পূর্ণ অন্যরকম অতিথির। লম্বা লেজ, ধূসর শরীর আর কালো মুখের এক প্রাণীকে দেখে প্রথমে স্থানীয়রা বানরই ভেবেছিলেন। কিন্তু এখানকার বানরের সঙ্গে সেটির খুব একটা মিল নেই। কারণ দেখতে বানরের মতো হলেও প্রাণীটি অনেক বড়। পরে বন দপ্তর জানায়, এটি আসলে একটি গ্রে ল্যাঙ্গুর (Gray Langur)।
এদিন ভোরে পরিমল রায় নামে এক বাসিন্দার বাড়ির শৌচাগারের ছাদে প্রাণীটিকে প্রথম বসে থাকতে দেখা যায়। পরিমলবাবু জানান, প্রথমে ভয় পেলেও পরে দেখেন প্রাণীটি শান্ত স্বভাবের। বিস্কুট দিলে দিব্যি খেয়ে নিচ্ছে। এরপরই খবর চাউর হতে ভিড় জমে যায় এলাকায়। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চলে দেদার সেলফি আর ভিডিও তোলার হিড়িক। আলুখেত থেকে টিনের চাল— সর্বত্রই দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় ল্যাঙ্গুরটিকে।
জলদাপাড়া বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই প্রাণীটি সাধারণত এই বনাঞ্চলে থাকে না। এটি বাইরের কোনও এলাকা থেকে পথ হারিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে। বনকর্মীরা এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন যাতে কেউ প্রাণীটিকে উত্যক্ত না করেন।
বর্তমানে ল্যাঙ্গুরটির গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে বন দপ্তর। লোকালয়ে থাকলেও প্রাণীটি যাতে নিরাপদ থাকে এবং জঙ্গলে ফিরে যেতে পারে, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।
