নয়নিকা নিয়োগী, কলকাতা: বাংলায় তৈরি স্যালাইন (Saline) গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর (West Bengal Well being Division) ফের ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইনকে নিষিদ্ধ তালিকায় স্থান দিল। পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সংস্থা। গত বছর মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু ও কয়েকজনের অসুস্থ হওয়ার পর অভিযোগের আঙুল উঠেছিল ওই সংস্থার তৈরি স্যালাইনের দিকে। শেষপর্যন্ত তখন স্যালাইনটি নিষিদ্ধ করে স্বাস্থ্য দপ্তর।
এক বছর পরেও কিন্তু স্যালাইনটি গুণমানে উতরোতে পারল না। স্বাস্থ্য দপ্তর সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গুয়াহাটির ল্যাবরেটরিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি ০৩বি৩৯১১ ব্যাচের রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। ফলে স্যালাইনটি নিষিদ্ধ তালিকাতেই থেকে গেল। যদিও রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অবশ্য বক্তব্য, ‘আমি এবিষয়ে মন্তব্য করব না। সবটাই দপ্তরের সিদ্ধান্ত।’
স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের ওষুধ শিল্পে বড় ধাক্কা সন্দেহ নেই। সার্বিকভাবে বাংলায় শিল্পে সমস্যার শেষ নেই। রাজ্যের শিল্পোদ্যোগীদের বিনিয়োগ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। ওষুধ শিল্প তেমনই। তার মধ্যে রাজ্যের একটি সংস্থার তৈরি স্যালাইন নিষিদ্ধ হয়ে গেল। সংস্থাটি আবার উত্তরবঙ্গের। যদিও গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায় সেই সংস্থারই।
গত বছর নিষিদ্ধ করার পর স্বাস্থ্য ভবন দাবি করে, নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে চোখের আড়ালে এই স্যালাইন উৎপাদন করা হয়। তারপরই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই স্যালাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এবার ফের গুণমান পরীক্ষায় রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন অনুত্তীর্ণ হওয়ায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন ছাড়াও চলতি বছরে গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হল বিভিন্ন সংস্থার তৈরি ৪৫টি ওষুধের (Banned Medicines West Bengal) নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচ। যার মধ্যে রয়েছে ফুসফুসে সংক্রমণ, সাইনাস, টনসিল, নাক-কান-গলার ইনফেকশন, কাশি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, বুকে যন্ত্রণা প্রশমন এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের একাধিক ওষুধ।
তালিকায় রয়েছে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার ‘লাইফ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তৈরি ক্রোমোস্ট্যাট ইনজেকশন, জগাছার ‘ডায়মন্ড ড্রাগস’-এর তৈরি ড্রায়েড অ্যালুমিনিয়াম জেল, কলকাতার ‘সানি ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর তৈরি পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও ‘ক্যাপলেট ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তৈরি ওআরএস-এর একটি ব্যাচ।
গুজরাট, পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সহ একাধিক রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার তৈরি ওষুধও গুণমানের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। নির্দিষ্ট ওই ব্যাচের ওষুধগুলি আর ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। যে ওষুধগুলি এখনও বাজারে রয়েছে, রোগীর নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
