শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: গ্রিন ট্রাইবিউনালের নিষেধাজ্ঞা মেনে গতবছর সাগরদিঘিতে (Sagardighi) নির্মীয়মাণ ঘাট ভেঙে দেয় প্রশাসন। সেই নিয়ে তুমুল বিতর্ক বাধে। শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে পুজোর অনুমতি আদায় করেছিলেন ছটব্রতীরা। এবছরও পুলিশ-প্রশাসনের কাছে সাগরদিঘিতে পুজোর অনুমতি পেতে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকও করেন আয়োজকরা। তবে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে লিখিত অনুমতি মেলেনি।
প্রতিবছরই সাগরদিঘিতে ছটপুজো হয়। নর্থবেঙ্গল বাসফোর অ্যান্ড হরিজন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের তরফে গতবার হাইকোর্ট থেকে সাগরদিঘিতে পুজোর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এবছর অবশ্য আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তরফে জেলা শাসক, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে আয়োজনের জন্য আবেদন জানানো হয়। ছটব্রতীরা যেন সেখানে পুজো করতে পারেন, সেজন্য তৃণমূল কংগ্রেসের এক জেলাস্তরের নেতা তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা সারেন আয়োজকদের একাংশ।
লিখিত অনুমতি না পেলেও সেই বৈঠক থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সাগরদিঘিতে ঘাট তৈরি শুরু হয়েছে। নর্থবেঙ্গল বাসফোর অ্যান্ড হরিজন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক অভিনব হরিজনের কথায়, ‘আমরা রীতি মেনে পুজো করব। নিজেরাই পরিষ্কার করে ঘাট তৈরি করছি। আবার পুজো শেষে চারপাশ সাফাই করে দেওয়া হবে।’
ছটব্রতী দীপক শাহের প্রতিশ্রুতি, ‘উৎসবের পাশাপাশি আমরা প্রকৃতি, পরিবেশের বিষয়টিও মাথায় রাখি। তাই প্রতিবছর পুজো শেষে নিজেরা ঘাট পরিষ্কার করে দিই। গতবছরও তার অন্যথা হয়নি। কথা দিচ্ছি, এবারও তেমন হবে।’ পুজোর জন্য প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রিতা হরিজন বললেন, ‘আমরা সারাবছর এই সময়ের অপেক্ষায় থাকি। গতবছর আয়োজনে বাধা এসেছিল। পরে কোর্টের অনুমতি নিয়ে সেই সমস্যা মিটে যায়। আশা করছি, এবার আর কোনও ঝামেলা হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে পুজো মিটবে।’
কোচবিহারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় ছটব্রতীদের জমায়েত হয় তোর্ষার ফাঁসিরঘাটে। এছাড়া মরাতোর্ষা আর সাগরদিঘির পাড়ে আয়োজন হয়। অন্য জায়গা নিয়ে সমস্যা না হলেও গ্রিন ট্রাইবিউনালের নির্দেশ থাকায় সাগরদিঘিতে পুজো নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পুলিশ ও ছটব্রতীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। এবার দু’পক্ষের অবস্থান শেষপর্যন্ত ঠিক কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে শহরবাসী। এদিন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোচবিহার সদরের মহকুমা শাসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন কেটে দেন। ফলে এই ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য মেলেনি।
