মালদা ও সামসী: ‘হিম্মত থাকলে আমাকে বাংলাদেশে পাঠাক।’ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে এভাবেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। নাম না করে সুকান্তকে উদ্দেশ্য করে সাবিনা বলেন, ‘হিম্মত থাকলে আমার নাগরিকত্ব কেড়ে দেখাক। সবার আগে ওঁর নাগরিকত্ব যাচাই করা উচিত। উনি বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সংখ্যালঘুদের উপর গুলি চালাবেন। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়ে কীভাবে এমন কথা উনি বলেন?’ সুকান্তর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন সাবিনা। এদিকে, সুকান্তকে সাধারণ মানুষ লাঠিপেটা করবে বলে হুমকি শোনা যায় মালদা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর গলায়। বিজেপি কর্মীরাই সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রহিম বক্সী। মালতীপুরের সভা থেকে বিজেপিকে উইপোকা বলে কটাক্ষ করে তিনি গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীদের সমাজ থেকে বহিষ্কারের নিদান দেন।
কলকাতায় এক দলীয় কর্মসূচিতে সুকান্ত সাবিনাকে বাংলাদেশে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রাস্তায় নেমে সংখ্যালঘুরা গণ্ডগোল করলে সিআরপিএফ গুলি চালাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার সাবিনা পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন সুকান্তকে।
এদিন মালদা শহরে দলের বিজয়া সম্মিলনিতে যোগ দিয়ে রহিম বক্সী বিজেপিকে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপি এরাজ্যে দাঙ্গা লাগাতে চাইছে। দাঙ্গা লাগিয়ে ৩৫৫ ধারা জারি করে এরাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। সুকান্তরা গোল্লা পাবেন। এখন দেখতে পাচ্ছেন না, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতাদের লাঠিপেটা করছে, ঝাঁটাপেটা করছে! সুকান্তর কপালেও এটা বাকি আছে। সাধারণ মানুষ যখন লাঠি নিয়ে তাড়া করবেন, মহিলারা ঝাঁটা নিয়ে তাড়া করবেন, তখন বুঝবেন এমন অশালীন বক্তব্যের আসল মজা। হিন্দু-মুসলমান করে ওঁরা কখনও জিততে পারবেন না।’
এদিন রাজ্যে সেচ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি জানি না সুকান্ত মজুমদার কী নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। শুনেছি উনি একজন অধ্যাপক। কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার অধিকার বিজেপির নেই, সুকান্তবাবুরও নেই। ওঁর ক্ষমতা থাকলে আমার নাগরিকত্ব কেড়ে দেখান। বড় বড় ডায়ালগ মেরে কাজ হবে না। এখানে আমরা লন্ডভন্ড করে নয়, এসআইআরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। বিজেপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমি ওঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে যাচ্ছি।’
অন্যদিকে, রহিম বক্সীর উদ্যোগে মালতীপুরে বিজয়া সম্মিলতিতে যোগ দেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তজমুল হোসেনও। ইউসুফ পাঠান বলেন, ‘রাজ্য সরকার মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে মহিলাদের সম্মান জানিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দিদির হাত আরও শক্ত করতে হবে।’
মালতীপুরে রহিম বক্সী বলেন, ‘খগেন মুর্মুর উপর হামলা সমর্থন করি না। মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপির কর্মীরাই হামলা চালিয়েছেন।’ তাঁর সংযোজন, ‘বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য করে কু-চক্রান্তকারীরা জাতপাতের নামে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনীতির মুনাফা লুটতে চাইছে। তারা প্রতিটি এলাকায় ঘুরছে। তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। কারণ উইপোকা থাকলে মানুষকে ভিতর থেকে শেষ করে দেবে।’
