উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বসন্তের হাতছানি আর বাতাসে প্রেমের শিরশিরানি—ফেব্রুয়ারি এলেই শহরজুড়ে এক অন্যরকম মাদকতা। আজ ‘রোজ ডে’। ভালোবাসার সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়ে গেল হৃদয়ের লেনদেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রেম নিবেদনের সংজ্ঞাটুকু আর কেবল একটি লাল গোলাপে আটকে নেই। গোলাপের পাপড়ির সতেজতার সঙ্গে আধুনিক প্রেম খুঁজছে এমন কিছু, যা স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে আজীবন।
বাজারচলতি দামি পারফিউম বা নামী ব্র্যান্ডের গয়নার চেয়ে এখনকার তরুণ-তরুণীদের ঝোঁক বেশি ‘পার্সোনালাইজড’ উপহারের দিকে। প্রিয় মানুষের নাম খোদাই করা মগ, প্রিয় মুহূর্তের ছবি দিয়ে তৈরি ফটো ল্যাম্প কিংবা কাস্টমাইজড ফটো ফ্রেম এখন উপহারের তালিকায় শীর্ষে। ডিজিটাল যুগেও হাতে লেখা চিঠির আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ দিচ্ছে ডায়েরিতে সাজানো পুরনো ছবির অ্যালবাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের সময় ব্যয় করে তৈরি উপহার বা হাতে বানানো কার্ড ভালোবাসার গভীরতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
উপহার মানেই যে তা কোনো বস্তু হতে হবে, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন অনেকেই। আধুনিক দম্পতিরা এখন ঝুঁকেছেন ‘এক্সপেরিয়েন্স গিফট’-এর দিকে। শহরের ভিড় এড়িয়ে নির্জনে কাটানো কিছু মুহূর্ত, কোনো প্রিয় রেস্তোরাঁয় ডিনার ডেট কিংবা গঙ্গার ধারে হাতে হাত রেখে হাঁটা—সেরা উপহার হিসেবে এগুলিই জায়গা করে নিচ্ছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় দূরত্ব এখন কোনো বাধা নয়। ভিন রাজ্যে থাকা সঙ্গীকে বিশেষ অনুভূতি পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রযুক্তি। কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করলেই বেজে উঠবে প্রিয় গান, কিংবা স্পটিফাই-তে তৈরি করা বিশেষ প্লেলিস্ট—এমন সৃজনশীলতা এখনকার ‘ইন-থিং’। রোজ ডের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রেমের মরসুম শহরবাসীর জীবনের অ্যালবামে আরও একটি স্মরণীয় দলিল হয়ে থাক, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
