নয়াদিল্লি: দিনকয়েক আগে সংসদে নতুন আয়কর বিল পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কেন্দ্রের দাবি, বিলটি আইনে পরিণত হলে আয়কর (Revenue Tax) কাঠামোর সরলীকরণ হবে। তবে সেই বিলেই আয়কর আধিকারিকদের যেভাবে করদাতাদের ‘ভার্চুয়াল-ডিজিটাল-সোশ্যাল স্পেস’-এর তথ্য-তল্লাশির অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিলের ২৪৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ২০২৬-এর ১ এপ্রিল থেকে আয়কর দপ্তর তদন্তের প্রয়োজনে আয়করদাতাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, ইমেল, অনলাইন বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এজন্য তদন্তকারীদের আয়করদাতার পাসওয়ার্ড বা অ্যাক্সেস কোর্ডের প্রয়োজন হবে না। তদন্তের স্বার্থে আয়কর দপ্তর সামাজিক ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভেঙে ঢুকে পড়তে পারবে।
এই ধরনের ক্ষমতা মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। অন্যদিকে সরকারি সূত্রের যুক্তি, যাঁরা কর ফাঁকি দিচ্ছেন বা আয়কর সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য আয়কর আধিকারিকদের বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমান আয়কর আইন, ১৯৬১-র ১৩২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যদি আয়কর আধিকারিকদের সন্দেহ হয়, কোনও করদাতা তাঁর সম্পদের একাংশ অপ্রকাশিত বা গোপন রেখেছেন, তাহলে তাঁরা ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও দপ্তরে তল্লাশি চালাতে পারেন। তল্লাশির সময় আলমারি বা লকারের চাবি পাওয়া না গেলে সেগুলি ভাঙতেও পারে আয়কর দপ্তর। নতুন বিলে সেই ক্ষমতাকে আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
সংসদে পেশ হওয়া আয়কর বিলটি বর্তমানে লোকসভার সিলেক্ট কমিটির কাছে রয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানেই আয়কর তদন্তের নামে মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়ার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বিরোধী সদস্যরা। বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত পান্ডার নেতৃত্বাধীন কমিটি ইতিমধ্যে বিল নিয়ে অর্থমন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ শুনেছে। এরপর ধাপে ধাপে সাধারণ করদাতা, বণিক সংগঠন, সিএ ফার্ম, আর্থিক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত নেবে সিলেক্ট কমিটি।
