উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের সকালে কুয়াশার চাদর সরিয়ে দিল্লির কর্তব্য পথে (Kartavya Path Parade 2026) বীরত্বের গাথা আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস (Republic Day Celebration)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা হলো।
শহিদ তর্পণ ও কুচকাওয়াজের সূচনা: অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে শহিদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং এ বছরের প্রধান অতিথি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন প্রথাগত বাগিতে চড়ে স্যালুটিং ডায়াসে পৌঁছান। ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় কুচকাওয়াজ।

সামরিক শক্তির মহড়া ও ‘ফেজড ব্যাটল অ্যারে’: এ বছরের কুচকাওয়াজের মূল আকর্ষণ ছিল ভারতীয় সেনার ‘ফেজড ব্যাটল অ্যারে’। প্রথমবারের মতো ৬১ ক্যাভালরির সদস্যরা যুদ্ধের পোশাক পরে প্যারেডে অংশ নেন। ভীষ্ম ও অর্জুন ট্যাঙ্কের গর্জনের পাশাপাশি নাগ মিসাইল সিস্টেম ও DRDO-র তৈরি অত্যাধুনিক হাইপারসোনিক মিসাইল ভারতের দেশীয় প্রযুক্তির সাফল্য প্রমাণ করেছে। আকাশপথে রাফাল, সুখোই ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মহড়া দর্শকদের রোমাঞ্চিত করে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রদর্শনী সেনার আধুনিক সক্ষমতাকে তুলে ধরে।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও নতুন আকর্ষণ: ‘বিবিধের মাঝে ঐক্য’ থিমে প্রায় ১০০ জন শিল্পী ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবেশন করেন। লাদাখের জাস্কার টাট্টু ঘোড়া এবং দুই কুঁজওয়ালা উট ছিল এ বছরের নতুন চমক। এছাড়াও ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ও শক্তিবান রেজিমেন্ট প্রথমবারের মতো প্যারেডে শামিল হয়। লালকেল্লার মাঠে এদিন থেকেই শুরু হয়েছে ছ’দিনের ‘ভারত পর্ব’।
নিরাপত্তার লৌহবর্ম: অনুষ্ঠানকে ঘিরে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। অত্যাধুনিক ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS), ৩০০০-এর বেশি সিসিটিভি এবং পুলিশকর্মীদের হাতে থাকা ভারত-নির্মিত ‘এআই চশমা’ রিয়েল-টাইমে নজরদারি চালিয়েছে। কর্তব্য পথ থেকে লালকেল্লা পর্যন্ত পুরো এলাকা ছিল স্নাইপার ও ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তির কড়া প্রহরায়।
