নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচনী গণতন্ত্রের ইতিহাসে সম্ভবত এক চরম মুহূর্ত ঘনিয়ে আসছে। এই প্রথম কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে (CEC) পদ থেকে সরানোর (Removing of CEC Gyanesh Kumar) জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভায় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধী দলগুলি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের শরিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে।
কেন এই যুদ্ধংদেহি মনোভাব?
বিরোধীদের অভিযোগের তির মূলত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ‘একতরফা’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের দিকে। অভিযোগপত্রে মোট সাতটি গুরুতর চার্জ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- নির্বাচনী জালিয়াতি: তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি।
- গণ-বঞ্চনা: ভোটার তালিকা থেকে ঢালাও নাম বাদ দিয়ে নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া।
- বিশেষ সংশোধনীর (SIR) অপব্যবহার: বিরোধী শিবিরের দাবি, চলমান ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়াকে শাসকদলের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন এই ইস্যুতে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন (Mamata Banerjee voter deletion declare)।
সংখ্যাচক্রের লড়াই:
নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় এই প্রস্তাব আনতে অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সই প্রয়োজন। বিরোধীদের দাবি, লোকসভায় ১২০ জন এবং রাজ্যসভায় প্রায় ৬০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই সই করেছেন। আম আদমি পার্টি (AAP)-র মতো দলগুলোও এই পদক্ষেপে সামিল হয়েছে।
অপসারণের প্রক্রিয়া কি সহজ?
সিইসি-কে অপসারণের পদ্ধতি (Removing strategy of CEC) ঠিক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতোই জটিল। এটি সফল করতে সংসদের উভয় কক্ষেই ‘বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ (Particular Majority) প্রয়োজন। অর্থাৎ, মোট সদস্যের অর্ধেকের বেশি এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন লাগবে। প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতা ছাড়া তাঁকে সরানো অসম্ভব।
সংসদীয় অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যেই এই প্রস্তাব জমা পড়তে পারে। যদি এটি গৃহীত হয়, তবে স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান মিলে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের এই চাল এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
