উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, যিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক অটল চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিরাজমান ছিলেন, ২০১৬ সালে ৯০ বছর বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কার্যত একটি যুগের অবসান ঘটান। দীর্ঘকাল ধরে কিউবার রাষ্ট্রপতি থাকা এই ‘ক্যারিশম্যাটিক’ নেতা কিউবাকে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কাঠামোর ভিত্তিতে এক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও কাস্ত্রো কিউবার মাটিতে পুঁজিবাদকে ঢুকতে দেননি। তাঁর আমেরিকা-বিরোধী অকুতোভয় অবস্থান ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। কোল্ড-ওয়ারের সময় তাঁর নীতি রাশিয়াকে আরও আক্রমণাত্মক হতে সাহায্য করে এবং সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকায় এক নতুন রাজনৈতিক আখ্যান তৈরি করে। হাভানা থেকে মস্কো এবং নিউইয়র্ক পর্যন্ত কাস্ত্রোর বার্তা ছিল স্পষ্ট, কিউবা তার নিজের পথ নিজেই নির্ধারণ করবে। জাতিসংঘের ইতিহাসে দীর্ঘতম ভাষণ প্রদানকারী এই নেতা অর্ধশতাব্দী ধরে বিশ্বমঞ্চে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।
তবে এহেন ফিদেল কাস্ত্রোকে তাঁর জীবদ্দশায় বহুবার গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে সংঘটিত মার্কিন সেনেট তদন্তে জানা যায় যে, সিআইএ ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৮ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
অপরদিকে কিউবার গোয়েন্দা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ফ্যাবিয়ান এসক্যালান্টে (Fabin Escalante) ২০০৬ সালে জানান যে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৬৩৪টি গুপ্তহত্যার চক্রান্ত করা হয়েছিল। তবে এই চক্রান্তগুলির কোনটি ফলপ্রসূ হয়নি। এই চক্রান্তগুলোর মধ্যে ছিল প্রচলিত হামলার পাশাপাশি কিছু অদ্ভুত পরিকল্পনা যেমন, বিস্ফোরক ভর্তি চুরুট, বিষাক্ত মিল্কশেক, বিষাক্ত কালিভর্তি কলম, দূষিত স্কুবা স্যুট।
ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভারার নামও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিপ্লবীদের কাছে কাস্ত্রো ছিলেন সেই নায়ক, যিনি জনসমর্থন অর্জনের মাধ্যমে কিউবাবাসীর হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। এই কমিউনিস্ট নেতা ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
