সামসী: রতুয়া (Ratua)-১ ব্লকের চাঁদমুনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পরিস্রুত পানীয় জলের (Clear Consuming Water) ব্যবস্থা। সেই দাবি মেনে জেলা জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে বাটনার ছাইতনতলায় একটি পরিস্রুত পানীয় জল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল প্রায় দেড় বছর আগে। কিন্তু প্রকল্পের জলাধার ও পাইপলাইন নির্মাণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ গত প্রায় এক বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের পরিস্রুত পানীয় জলের স্বপ্ন আজও অধরাই (Water Disaster) থেকে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বাটনা, বোমপাল, রামপুর, আন্ধারু, চাঁদপাড়া, লক্ষীপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কবে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রতুয়া-১ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, “পাইপলাইনের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। অন্যদিকে জলাধার নির্মাণের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কাজের বিল না পাওয়ায় ঠিকাদার প্রায় এক বছর আগে কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তারপর থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। কবে পুনরায় কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।”
বোমপাল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, “রতুয়ার নাককাট্টি ঘাটের ফুলহর নদী থেকে জল এনে এই জলাধারে জমা করার কথা। এরপর সেই জল পরিশোধন করে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে সরবরাহ করা হবে। চাঁদপাড়া মৌজার বাটনার ছাইতনতলায় অবস্থিত এই পিএইচই প্রকল্প থেকে বাটনা, বোমপাল, রামপুর, আন্ধারু, চাঁদপাড়া, লক্ষীপুর-সহ একাধিক গ্রামে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
আন্ধারু গ্রামের বাসিন্দা নৌশাদ আলি বলেন, “আজও আমাদের নলকূপের আয়রনযুক্ত জলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক সময় সেই জল পান করে পেটের বিভিন্ন সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। তাই দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি।”
চাঁদমুনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আসফাতুর রহমান বাবলু বলেন, “প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”
জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থমূলক প্রকল্প। কাজ কেন বন্ধ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করা হবে।”
পরিস্রুত পানীয় জলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা চাঁদমুনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরুর আশায় দিন গুনছেন। তাদের দাবি, আর দেরি নয়—অবিলম্বে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হোক।

