কোচবিহার: কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা (Cooch Behar South) কেন্দ্রে অবশেষে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। বুধবার বিকেলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কেন্দ্রে লড়াই করবেন বিজেপির উত্তরবঙ্গ বিভাগের আহ্বায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Bose BJP)। কোচবিহার দেবীবাড়ির ভূমিপুত্র হলেও রথীন্দ্রনাথ বাবু দীর্ঘ সময় শিলিগুড়িতে সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমান বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে-কে (Nikhil Ranjan Dey) টিকিট না দেওয়া এবং রথীন্দ্রনাথ বসুর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন বেশ সরগরম।
রথীন্দ্রনাথ বসু বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন এবং উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক কাজে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, কোচবিহারের মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের যোগ্য জবাব দিতে বিজেপিকেই বেছে নেবে। যদিও শিলিগুড়িতে থাকার কারণে তাঁকে ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধী শিবির, তবে রথীন্দ্রনাথ বাবু সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের পৈতৃক ভিটে দেবীবাড়ির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।
এদিকে বর্তমান বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে-কে এবার টিকিট না দেওয়া নিয়ে দলের অন্দরে কিছুটা গুঞ্জন রয়েছে। নিখিলবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, “দলের সিদ্ধান্ত শিরোধার্য। তবে আমার মনে হয় স্থানীয় কাউকে টিকিট দিলে দলের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো সহজ হতো।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এখানকার ভোটাররা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন, তাই জয় নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।
কোচবিহার দক্ষিণে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক ইতিমধ্যেই পুরোদমে প্রচার শুরু করেছেন। বিজেপির প্রার্থী ঘোষণায় দেরি হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। তাঁর মতে, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে এবং তৃণমূলেরই জয় হবে। অন্যদিকে, এখনও নাটাবাড়ি ও সিতাই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি বিজেপি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।
