উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত হলেন অযোধ্যায় রামজন্মভূমি আন্দোলনের (Ram Janmabhoomi motion) অন্যতম স্তম্ভ তথা অযোধ্যার প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ রামবিলাস বেদান্তি (Ram Vilas Vedanti)। সোমবার মধ্যপ্রদেশের রেওয়াতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। রামবিলাসের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
জানা গিয়েছে, রামকথা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সম্প্রতি রেওয়াতে এসেছিলেন রামবিলাস বেদান্তি। কিন্তু রবিবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর কিডনি কাজ করছিল না বলে খবর। এর মাঝেই রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে ভোপালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু দৃশ্যমানতা কম থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর সোমবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার অযোধ্যায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
রামবিলাস বেদান্তির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে আদিত্যনাথ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘শ্রী রামজন্মভূমি আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট স্তম্ভ, প্রাক্তন সাংসদ এবং শ্রী অযোধ্যা ধামের বশিষ্ঠ আশ্রমের শ্রদ্ধেয় সন্ত ডঃ রামবিলাস বেদান্তি মহারাজের প্রয়াণ আধ্যাত্মিক জগৎ এবং সনাতন সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান হল। ধর্ম, সমাজ এবং জাতির সেবায় নিবেদিত তাঁর ত্যাগময় জীবন আমাদের সকলের অনুপ্রেরণা। আমরা ভগবান শ্রী রামের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন প্রয়াত এই মহাত্মাকে তাঁর পবিত্র চরণে স্থান দেন এবং শোকাহত শিষ্য ও অনুরাগীদের এই অপরিসীম শোক সহ্য করার শক্তি দেন।’
উল্লেখ্য, রামবিলাস বেদান্তি শুরু থেকেই একজন সক্রিয় হিন্দু ধর্মীয় নেতা ছিলেন। তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং রামজন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। ১৯৮০-এর দশক থেকে তিনি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেশব্যাপী প্রচারের নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর রামমন্দির আন্দোলনের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দিন ছিল। সেই দিনই বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে তিনি একটি বিতর্কিত স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে করেছিলেন তিনি। এরপর বাবরি মসজিদ মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যদিও পরে মুক্তি পান তিনি। তাঁর প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাধু সম্প্রদায় তথা রাজনৈতিক মহলে।
