নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নগেন রায় মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার নেওয়ার পর থেকেই কামতাপুরি-রাজবংশী ভোটের (Rajbanshi Vote Equation) অঙ্ক বদলাতে শুরু করেছে। একদিকে নগেনের তৃণমূল-যোগের জল্পনা বেড়েছে। অন্যদিকে ঠিক সেই সময় উত্তরবঙ্গের (North Bengal Politics) আর এক রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মন গোপনে দিল্লিতে বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করার তোড়জোড়ে নতুন সমীকরণ দানা বাঁধছে। বংশী নিজেই দাবি করেছেন, দিল্লির নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। সময় দিলে তিনি দিল্লি গিয়ে দেখা করতে পারেন।
রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেছেন, ‘আমার কাছে খবর নেই। তবে অনেক নেতাই যোগাযোগ করছেন বলে শুনেছি।’
রাজনৈতিক মহলে কিন্তু অন্য জল্পনা। বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে বংশী দিল্লিতে গিয়েছেন। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর একদফা কথাও হয়েছে। তিনি কলকাতাতেও রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। যদিও বংশী তা অস্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবি, ‘বিধানসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে ২০টির বেশি আসনে আমরা প্রার্থী দিতে চাইছি। যারা আমাদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল আমরা তাদের সঙ্গে থাকব।’ তিনি আরও ২০০০ রাজবংশী স্কুলের অনুমোদন চাইছেন। সেইসঙ্গে রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি, কোচবিহার রাজ্যের দাবি তো রয়েছেই। রাজ্যভাগের পক্ষে আপত্তির কথা তৃণমূল আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। বংশীর ২০টি আসনের দাবিও তৃণমূল মানতে চায়নি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও উত্তরবঙ্গে আলাদা রাজ্যের দাবি মানতে চায়নি।
এই অবস্থায় বংশী কাকে সমর্থন জানাবেন? তাঁর বক্তব্য, ‘আপাতত কাউকে সমর্থনের বিষয়ে ভাবছি না। ভোট ঘোষণা হোক তারপর চিন্তা করা যাবে।’ তাহলে কি নিজেরা প্রার্থী দেবেন? বংশীর জবাব, ‘প্রার্থীতালিকা তৈরি রয়েছে। ঘোষণা করতে সময় লাগবে না। তবে যারা আমাদের দাবিগুলি মানবে এবং যাদের সমর্থন করলে উত্তরের রাজবংশীরা উপকৃত হবেন, সেদিকেই আমরা থাকব।’
বংশীকে রাজবংশী ভাষা আকাদেমির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে বংশীর। মাসখানেকের মধ্যে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জনসভাতেও বংশীকে দেখা যায়নি। বংশীর ঘনিষ্ঠ মহলে কানাঘুষো, বংশীর দাবিতে একেবারেই সাড়া দিচ্ছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। বরং নগেনের ব্যাপারে তারা অনেক বেশি আগ্রহী। এই মুহূর্তে বিজেপির দিকে ঝুঁকলে বংশী কিছুটা হলেও গুরুত্ব পেতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, নগেন শেষমুহূর্তে তৃণমূলকে সমর্থন জানালে রাজবংশী ভোটের একটা বড় অংশ তৃণমূলের (TMC) দিকে যেতে পারে। এক বিজেপির নেতার কথায়, নগেনের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরে। তবে এখনও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। রাজবংশীদের কথা কেন্দ্র ভাবছে।
নগেনের তৃণমূলপ্রীতি প্রসঙ্গে বংশীর দাবি, ‘প্রত্যেকের নিজের মতো করে চলার অধিকার রয়েছে। কেউ নিজের ফায়দা দেখতে ব্যস্ত, কেউ জাতি, মাটির স্বার্থে কাজ করছে।’
