জলপাইগুড়ি: ভারী বৃষ্টি ও হড়পার আগাম পূর্বাভাস পেতে ভুটানে (Bhutan) আরও ৩৮টি নতুন স্বয়ংক্রিয় রেইন গেজ স্টেশন (Rain Gauge Station) চালুর আর্জি জানাল সেচ দপ্তর। কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রকের মাধ্যমে ভুটান সরকারকে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ভুটানের ভৌগোলিক সীমানার ভেতর চারটি রেইন গেজ স্টেশন রয়েছে বটে, কিন্তু ওই স্টেশনগুলির পূর্বাভাসে উত্তরবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা হড়পার আগাম খবর পাচ্ছে না জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং জেলা প্রশাসন। তাই ওই তিন জেলার নিকটবর্তী ভুটানের অংশে আরও স্বয়ংক্রিয় রেইন গেজ স্টেশন চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক জানান, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও কালিম্পংয়ের বিন্দু, চিসাং, তোদে, তাংতা এবং নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ভুটানের অংশে ৩৮টি স্বয়ংক্রিয় রেইন গেজ স্টেশন বসানোর অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত ও ভুটানের মধ্যে ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির লক্ষ্য অনুসারে এই প্রস্তাব রাজ্য সেচ দপ্তরের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার ভুটান সরকারকে জানিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং জেলার সেচ দপ্তর ভুটানে অবস্থিত চারটি রেইন গেজ স্টেশন থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে থাকে। জলঢাকা, তোর্ষা, সংকোশ নদী ভুটানেও প্রবাহিত হয়েছে। ভুটানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে ওই নদীগুলির জলস্তর বেড়ে যায়। তখন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে তার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলছেন, ‘ভুটান সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলির কাছেপিঠে প্রচুর ঝোরা ও নদী রয়েছে। সেগুলিতে হড়পা হয়। কিন্তু ৪টি স্টেশন দিয়ে আমরা জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত ভুটানের ভারী বৃষ্টির ও হড়পার পূর্বাভাস পাই না।’

