Raiganj College | ই-মেলে ইস্তফা অস্থায়ী উপাচার্যের, ছাড়লেন কর্ণজোড়ার বাংলো, সরকারি গাড়ি

Raiganj College | ই-মেলে ইস্তফা অস্থায়ী উপাচার্যের, ছাড়লেন কর্ণজোড়ার বাংলো, সরকারি গাড়ি

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: স্থায়ী উপাচার্য যোগ দেওয়ার কয়েকদিন আগে, বুধবারই নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Raiganj College) অস্থায়ী উপাচার্য দীপককুমার রায়। বুধবার বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিট নাগাদ ই-মেল মারফত তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court docket) নির্দেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অর্ণব সেনের নাম ইতিমধ্যেই মনোনীত হয়েছে। রাজ্যপাল তাঁকে নিয়োগপত্র দিলেও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়ায় অর্ণব এখনও কাজে যোগ দিতে পারেননি। তবে আগামী সপ্তাহেই তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার কথা। তার আগেই দীপকের এই আচমকা প্রস্থানে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক শূন্যতা। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য দীপককে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

অস্থায়ী উপাচার্যের ইস্তফা পাওয়ার পরেই দ্রুত সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিন ডিন এবং অন্য আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার। রেজিস্ট্রার বলেন, ‘এদিন বিকেলে ই-মেল মারফত পদত্যাগপত্র পেয়েছি। স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেখানে যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়, যা বলার সেদিনই বলব।’

ঘটনার পরপরই দীপক কর্ণজোড়ার বাংলো ছেড়ে দিয়ে কলেজপাড়ায় নিজের ভাড়াবাড়িতে চলে গিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন সরকারি গাড়িও। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসার অমিত মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘তিনি তো রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন, তাই এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’ আইকিউএসি-র ডিরেক্টর প্রশান্ত মহালা বলেন, ‘উপাচার্য দীপককুমার রায় পদত্যাগ করেছেন কি না তা এখনও জানি না। তবে উপাচার্য না থাকলে তো সমস্যা হবেই।’

এদিকে হবু উপাচার্য অর্ণব সেন পুরো বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তিনি বলেন, ‘যিনি উপাচার্য ছিলেন তিনি নিশ্চয়ই সমস্ত বিষয় রেজিস্ট্রারকে বুঝিয়ে দেবেন, আমি যোগ দেওয়ার পর রেজিস্ট্রার আমাকে বুঝিয়ে দেবেন। দীপক ওখানকার এক অধ্যাপকের মারফত আগেই আমাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন। আমি বলেছিলাম রাজ্যপাল এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার জন্য।’ আর নিজের যোগদান প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, ‘রাজ্যপাল আমাকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের চিঠি পেলেই যোগ দেব।’

২০২১ সাল থেকে স্থায়ী উপাচার্যহীন এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে দায়িত্ব নিয়েছিলেন দীপক রায়। তাঁর পদত্যাগের খবর জানাজানি হওয়ার পর তৃণমূল প্রভাবিত অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার প্রাক্তন ইউনিট সভাপতি নির্ঝর সরকার বলেন, ‘স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অধ্যাপকরা ভীষণ সমস্যার মধ্যে ছিলেন। আশা করি সেই সমস্যা শীঘ্রই মিটতে চলেছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *