উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘খাদিজা তুল কুবরা ইমামবারগাহ’ নামক (Khadija Tul Kubra Imambargah) এক শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে (Islamabad Blast)। পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী মসজিদের মূল চত্বরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে প্রবেশপথেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটকে দেয়। ভেতরে ঢুকতে না পেরে হামলাকারী প্রবেশপথেই বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রহরীদের এই সাহসিকতার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ইসলামাবাদ পুলিশের আইজিপি সৈয়দ আলী নাসির রিজভির এক তুতো ভাই রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ সাংবাদিক এহতেশাম উল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যখন রাজধানীতে ‘রক্তস্নান’ চলছে, তখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, বসন্ত উৎসব এবং ক্রিকেট ধারাভাষ্য প্রচার করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাপে সংবাদমাধ্যমগুলো নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছে।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এই হামলাকে একটি ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, পিপিপি (PPP) চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো জারদারি এই ঘটনাকে ‘মানবতা ও ধর্মের ওপর আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ইসলামাবাদ পুলিশ এই মুহূর্তে বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি।
ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তার কারণে বোমা হামলা বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ১১ নভেম্বরও শহরটিতে এক আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে অতীতে সুন্নি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) বারবার শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।
