দীপঙ্কর মিত্র,রায়গঞ্জ: বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতেই আশাহত আগেই দলত্যাগী উপপ্রধান। কারন প্রধান পদে বসার আশায় উপপ্রধান বিজেপির ৮ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে নিয়ে প্রায় ৬ মাস আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, উপপ্রধান ফুলমনি মার্ডিকে টোপ দেওয়া হয়েছিল, আড়াই বছর পর প্রধান মমতা রায় বর্মনের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে ফুলমনিকেই প্রধান পদে বসানো হবে। কিন্তু বুধবার রাতে বিজেপি প্রধান মমতা রায় সহ এক সিপিএম সদস্য সামসের আলম তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা আর থাকল না। অর্থাৎ ফুলমনি মার্ডি আর প্রধান হতে পারবেন না। এই নিয়ে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলত্যাগী সদস্যদের মধ্যে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে অনেকেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।
উপপ্রধান ফুলমনির কথায়, ‘প্রধানের পদ চলে যাওয়ার ভয়ে সে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। ওনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় আমরা ৮ জন ৬ মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলাম।’ তাহলে কি আবার বিজেপিতে যোগ দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ফুলমনির উত্তর,‘সে ব্যাপারে আলোচনা হয়নি। কিন্তু বিজেপিতে যাবো কেন?’
উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বুধবার রাতে প্রধান সহ আরেক সদস্য, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মণের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই ২ জন যোগ দেওয়ায় ২৬ আসন বিশিষ্ট রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা দাঁড়াল ১৪। ফলে একসঙ্গে এতজন বিজেপি সদস্যকে দলে টেনে এই যাত্রায় বোর্ড উলটে দিল তৃণমূল। এদিকে প্রধান মমতা রায় বর্মণের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে হলে আরও ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে বিজেপিকে। কারন পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী আড়াই বছরের আগে কোনও মতেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যায় না। উল্লেখ্য, রামপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে বুধবার রাতে এই যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
