দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের (Raiganj) প্রান্তিক এলাকায় চুপিসারে নাবালিকাদের বিয়ে সারছে অভিভাবকরা। ফলে অল্প বয়সে তারা হয়ে পড়ছে গর্ভবতী। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল প্রশাসন। আগামীতে বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী (Kanyashree) ক্লাবের মেয়েরা যাতে সরাসরি থানায় এসে জানাতে পারে সেজন্য সোমবার তাদের রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। কন্যাশ্রী মেয়েদের সাহস জোগাতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রায়গঞ্জ মহিলা থানা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিনি। রায়গঞ্জ মহিলা থানার আইসি শাশ্বতী কর্মকার বলেন, ‘পকসো আইন থেকে শুরু করে নারী সুরক্ষায় যেসব আইন রয়েছে তা ছাত্রীদের অবগত করা হয়। তাদের উপর কোনও অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলেই যাতে তারা সরাসরি মহিলা থানায় এসে অভিযোগ জানায় সেব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।’
মহিলা থানায় রায়গঞ্জের বেশ কয়েকটি স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েদের নিয়ে একটি সচেতনতা শিবির করা হয়। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার আইসি উদয়শংকর ঘোষ, মহিলা থানার আইসি, সিনির উত্তর দিনাজপুর ইউনিটের ব্লক সুপারভাইজার সুব্রত সাহা। সাধারণত এলাকার কোনও নাবালিকাকে বিয়ে দিলে বা নারীদের উপর কোনও নির্যাতনের ঘটনা বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটলে মেয়েরা সরাসরি থানায় এসে অভিযোগ জানাতে সাহস পেত না। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে দেরি হয়ে যেত। অপরাধীরা পালিয়ে যেত। তাই স্কুল ছাত্রীদের মনোবল বাড়াতে ওই শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে অন্তত ৫০ জন ছাত্রী অংশ নেয়। তারা সবাই কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্য।
রায়গঞ্জ মহিলা থানায় সচেতনতা শিবিরে যোগ দিয়ে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী বলে জানায় তারা। ভূপাল চন্দ্র বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির নিশা মোদক জানিয়েছে, থানায় অফিসার ম্যাডামরা যেভাবে তাদের আইন সম্পর্কে সচেতন করেছেন তাতে তারা উদ্বুদ্ধ। থানা সম্পর্কে ভয় কেটেছে। নিশা বলে, ‘এলাকায় কোনও নাবালিকা বিয়ের ঘটনা ঘটলেই থানায় এসে জানাব।’
সিনির ব্লক সুপারভাইজার সুব্রত সাহা বলেন, ‘কন্যাশ্রীর মেয়েরা আমাদের কাছে অনেক প্রশ্ন নিয়ে আসে। তাদের উত্তর দিতে আমরা পারি না। নানা রকম হেনস্তার শিকার বা নাবালিকার বিয়ে হলেও থানায় যেতে তারা সাহস পেত না। ভয় কাটাতেই কন্যাশ্রী মেয়েদের এদিন রায়গঞ্জ মহিলা থানায় নিয়ে গিয়ে বাল্যবিবাহ, পকসো সহ অন্য আইনগুলো সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হয়।’
