রায়গঞ্জ: অবশেষে জুনিয়ার সহ শিক্ষককেই টিচার ইনচার্জ (টিআইসি) পদে বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন হাইস্কুলের এই নিয়োগ নিয়ে টানা কয়েক মাস ধরে চলা বিতর্ক ও আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল বৃহস্পতিবার। আদালত সিনিয়ার সহ শিক্ষকের করা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে পরিচালন কমিটির সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিয়েছে। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনা শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ওই সময় স্কুলে টিআইসি পদ শূন্য হলে ইতিহাস বিষয়ের সহ শিক্ষক অশোককুমার সরকার পরিচালন কমিটির কাছে আবেদন করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়ার শিক্ষক হিসেবে তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে কমিটি অধিকাংশ শিক্ষকের সম্মতি নিয়ে জুনিয়ার সহ শিক্ষক বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে নিয়োগপত্র দেয়। এরপর অশোক জেলা শিক্ষা দপ্তর, পর্ষদ, এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত অভিযোগ জানান। সেখান থেকে কোনও সুরাহা না পেয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
অশোক সরকারের দাবি, ‘আমি ১৯৯৫ সালে এই স্কুলে যোগ দিয়েছি। প্রায় ২৯ বছর ধরে চাকরি করছি। ১০ জন সিনিয়ার শিক্ষকের মধ্যে আমি সবচেয়ে সিনিয়ার। অথচ আমাদের কোনও এনওসি না নিয়েই আমার চেয়ে ১৩ বছরের জুনিয়ার একজন শিক্ষককে টিআইসি পদে বসানো হয়েছে।’ হাইকোর্টের রায়ের পর এদিন অশোক বলেন, ‘হাইকোর্টে মামলা খারিজ হলেও আমি ডিভিশন বেঞ্চে যাব। আমাদের কোনও কথাই শোনা হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চেই জয় হবে।’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, জানুয়ারিতে নোটিফিকেশন জারি করে বলা হয়েছিল যোগ্য ও ইচ্ছুক শিক্ষকরা আবেদন করতে পারেন। আবেদন করেছিলেন অশোক সরকার ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল। কমিটি বিশ্বজিৎকে যোগ্য মনে করে নিয়োগপত্র দেয়। তবে অশোকবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বজিতের নিয়োগ অনুমোদন করেননি। সেই টানাপোড়েনের মধ্যেই শেষপর্যন্ত আদালতের রায়ে পরিচালন কমিটি স্বস্তি পেল।
টিআইসি বিশ্বজিৎ মণ্ডল জানান, পরিচালন কমিটির সভাপতি বোর্ডের কাছে আরটিআই করে টিআইসি নিয়োগের নিয়মাবলি জানতে চেয়েছিলেন। বোর্ড জানিয়েছিল, পরিচালন কমিটি নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিআইসি নিয়োগ করতে পারে। এখানে সিনিয়ারিটি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল বিষয় নয়। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘যিনি নিজেকে সিনিয়ার বলে দাবি করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঠিকমতো ক্লাস নেন না, সাইবার ক্রাইমের অফিসার সেজে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব দিক বিচার করেই হাইকোর্ট আমাকেই টিআইসি পদে বহাল রেখেছে।’
