Raiganj | উন্নয়ন না কি শুধুই প্রতিশ্রুতি? রায়গঞ্জের সাংসদ তহবিলের হিসেব নিয়ে তুঙ্গে তরজা

Raiganj | উন্নয়ন না কি শুধুই প্রতিশ্রুতি? রায়গঞ্জের সাংসদ তহবিলের হিসেব নিয়ে তুঙ্গে তরজা

শিক্ষা
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: নির্বাচিত হওয়ার পর দেড় বছর কেটে গিয়েছে। অথচ রায়গঞ্জের (Raiganj) সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পাল তাঁর সাংসদ তহবিলের এক টাকাও সাতটি বিধানসভা এলাকায় কোনও প্রকল্পের জন্য খরচ করতে পারেননি। যদিও একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থবরাদ্দের কথা ঘোষণা করছেন তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির সাংসদের এই টাকা খরচের ব্যর্থতার অভিযোগকেই প্রচারের হাতিয়ার করেছে বিরোধীরা। সরব হয়েছে তৃণমূল থেকে শুরু করে কংগ্রেস ও সিপিএম। যদিও অভিযোগ মানতে নারাজ সাংসদ। এব্যাপারে প্রশ্ন করতেই মুখে মুখে একগুচ্ছ কাজের হিসেব দিয়ে দিলেন কার্তিক। তাঁর দাবি, ‘৭টি বিধানসভা এলাকায় ৭৪টি শ্মশান, আলোকবাতি, পানীয় জল সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাবদ সাড়ে ছয় কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। আড়াই কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বাকি এক কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর আরও দাবি, ‘ওয়ার্ক অর্ডার পেলেই শীঘ্র কাজ শুরু হবে।’

এদিকে, সাংসদ তহবিলের এই টাকা খরচের বিষয়টি নিয়ে এখন স্থানীয় রাজনীতি সরগরম। সাংসদের এই বিভিন্ন কাজের দাবিকে ‘গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী সহ বিরোধীরা। কৃষ্ণের অভিযোগ, ‘আগেকার সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী ২৫ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। তিনি সাড়ে ১২ কোটি টাকার কাজ করেছেন। বর্তমান সাংসদ পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ। আজকের দিন পর্যন্ত এক টাকাও খরচ করতে পারেননি। পাশাপাশি রায়গঞ্জে ফ্লাইওভার, দূরগামী ট্রেন চালুর ব্যাপারেও নিশ্চুপ। অথচ একের পর এক জায়গায় চিঠি দিয়ে অর্থবরাদ্দ করে যাচ্ছেন।’ জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালও প্রশ্ন তুলেছেন। বলেন, ‘সাংসদ কেন তহবিলের অর্থ খরচ করতে পারছেন না তার উত্তর জনগণকে তিনি দেবেন। সাধারণ মানুষ তো ভোট দিয়েছেন।’

দেড় বছরেও সাংসদ তাঁর তহবিলের এক টাকাও খরচ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনোয়ারুল হকও। তাঁর কথায়, ‘মহম্মদ সেলিম রায়গঞ্জের সাংসদ থাকাকালীন পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরের বেশি সময় হল বিজেপির দুই সাংসদ এই জেলায় রয়েছেন। তাঁরা কী উন্নয়ন করেছেন, সেটা নিয়ে তাঁদের কাছে প্রশ্ন করা উচিত। শুধু ধর্মের উসকানি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ভোট রাজনীতি করছেন।’

কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক তথা রায়গঞ্জ লোকসভা আসনের পরাজিত প্রার্থী আলি ইমরান রমজও অনেকটা একই সুরে বলেন, ‘রায়গঞ্জ আসনটি ধর্মের উসকানি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তাই সাংসদ কোনও উন্নয়ন করতে পারছেন না।’ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের দাবি, সাংসদ স্কিমগুলি ঠিকমতো জমা না দেওয়ায় কাজ হচ্ছে না।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংসদ তহবিলের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। বাকি এক কোটি টাকার টেন্ডার শীঘ্রই হবে।

এদিকে, কার্তিকের হয়ে ব্যাট ধরেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ। তাঁর দাবি, ‘কংগ্রেস ও সিপিএম  সাংসদরাই কাজ করতে পারেননি। কার্তিক যেভাবে দিল্লিতে গিয়ে একের পর এক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং উন্নয়নের জন্য অর্থ নিয়ে আসছেন তা ভাবা যায় না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *