উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৭-র নিজের বাড়িতেই জাতীয় স্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব (২৫) তাঁর বাবা দীপক যাদবের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত দীপক।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁদের বাড়ির প্রথম তলায় এই ঘটনা ঘটে। রাধিকা তখন রান্নাঘরে মায়ের জন্য বিশেষ কিছু খাবার তৈরি করছিলেন। ১০ জুলাই ছিল রাধিকার মা মঞ্জু যাদবের জন্মদিন, আর সেই দিনই তিনি নিজের বাবার হাতে খুন হন। দীপক রাধিকাকে পেছন থেকে তিনটি গুলি করেন। তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত .৩২ বোর রিভলভার থেকে এই গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাধিকাকে তাঁর কাকা কুলদীপ যাদব এবং তুতো ভাই পীয়ুষ দ্রুত এশিয়া মারিঙ্গো হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
দীপক যাদব পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি রাধিকাকে বারবার টেনিস অ্যাকাডেমি বন্ধ করতে বললেও সে রাজি হয়নি। গ্রামবাসীরা তাঁর মেয়ের রোজগার নিয়ে কটূক্তি করত এবং তাঁর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলত। এই ‘অপমান’ ও চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদবের দায়ের করা এফআইআর-এও একই অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় বাড়িতে দীপক, রাধিকা এবং তাঁর মা মঞ্জু যাদব উপস্থিত ছিলেন। মঞ্জু দেবী জ্বরের কারণে অসুস্থ হয়ে ঘরে শুয়েছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি শুধু গুলির শব্দ শুনেছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাধিকার চরিত্র ভালো ছিল এবং সে কখনও পরিবারের সম্মানহানি করেনি।
রাধিকা একসময় জাতীয় স্তরে টেনিস খেলেছেন এবং বেশ কয়েকটি ট্রফিও জিতেছেন। তবে একটি ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়ার পর তিনি খেলা ছেড়ে দেন এবং একটি টেনিস অ্যাকাডেমি খুলে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।
পুলিশ দীপকের রিভলভারটি ড্রইংরুমের টেবিলে খুঁজে পায়, যেখানে পাঁচটি গুলির খালি খোল এবং একটি তাজা কার্তুজ ছিল। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা এসে রিভলভার, রক্তের নমুনা এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বি.এন.এস)-এর ১০৩(১) ধারা এবং অস্ত্র আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
