বৈষ্ণবনগর: কোরবানির ইদকে সামনে রেখে প্রতি বছর এই সময় কালিয়াচক (Kaliachak) ও বৈষ্ণবনগরের (Baishnabnagar) বিভিন্ন বাজারে মশলার দোকানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে (Qurbani Eid)। কারণ গোমাংস রান্নার জন্য প্রয়োজন আদা, রসুন, পেঁয়াজ, জিরা, ধনে, গোলমরিচ, শুকনো লংকা সহ নানা ধরনের মশলা। আর সেই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেত। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মশলা বিক্রি ও দামের ওপর।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গোরু জবাইয়ের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ আনার কারণে বহু মুসলিম পরিবার এবার আগের মতো বড় আকারে কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। ফলে রান্নার মশলা কেনার প্রবণতাও অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে যেসব মশলা কোরবানির মাংস রান্নায় বেশি ব্যবহৃত হয়, সেগুলির বিক্রি তুলনামূলকভাবে এবার কম হয়েছে। কালিয়াচকের এক খুচরো মশলা বিক্রেতা আলতাফ খান বলেন, ‘প্রতি বছর ইদের আগে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে যেত। মানুষ ৫ কেজি, ১০ কেজি করে পেঁয়াজ, আদা, রসুন কিনতেন। এবার সেই ছবি নেই। বিক্রি অনেকটাই কমেছে। বাজারে মশলা পড়ে রয়েছে, কিন্তু চাহিদা কম থাকায় দামও বাড়ছে না।’
বাজার সূত্রেই জানা গেল, গোলমরিচের দাম ৯০০ টাকা কেজি থেকে কমে ৮৫০ হয়েছে। পেঁয়াজের দাম ৪০ থেকে কমে ২০ হয়েছে, ধনের দাম ২০০ থেকে কমে ১৮০ হয়েছে, আদার দাম ২০০ থেকে কমে ১৪০ হয়েছে। যদিও জিরা আগের মতো ৩০০ টাকা প্রতি কেজিই রয়েছে।
আলতাফ আরও বলেন, ‘গোরু কোরবানি হলে মাংস রান্নার জন্য আলাদা করে মশলা কেনা হত। এখন অনেকে ছোট আকারে কোরবানি করছেন বা অন্য পশু নিচ্ছেন। তাই আগের মতো বাজার জমছে না।’
ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, কোরবানির মরশুমে মশলার বাজার মূলত গোরুর মাংস রান্নার চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সেই চাহিদা কমে যাওয়ায় এবার বাজারে সেই চিরচেনা ব্যস্ততা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করছেন।
এ বিষয়ে মৌলানা আসলাম আনসারি বলেন, ‘ইসলামে কোরবানির মাংস সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ গরিব-দুঃস্থ মানুষের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য, আর এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য। সেই কারণে যাঁরা কোরবানি দিতে সক্ষম তাঁরা, যাঁরা কোরবানি দিতে পারেন না তাঁদের কাছেও মাংস পৌঁছে দেন। ফলে কোরবানির ইদের দিন বহু গরিব পরিবারের বাড়িতেও মাংস রান্না হয়।’
মৌলানার কথার সূত্র ধরেই স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর কোরবানির সময় গ্রামের বহু পরিবার অন্যের দেওয়া মাংস পেত। গরিব মানুষ বছরের এই সময়টাতেই একটু ভালোমন্দ খাবার খেতে পারে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা।’
মশলা কিনতে আসা লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলছেন, ‘গত বছর কোরবানির আগে অনেক বেশি মশলা কিনতে হয়েছিল। এবার ততটা লাগবে না। তাই অল্প পরিমাণে কিনছি। বাজারে দামও আগের তুলনায় কিছুটা কম আছে।’
সব মিলিয়ে, ইদের আগে যেখানে মশলার বাজারে উৎসবের আমেজ তৈরি হওয়ার কথা, সেখানে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরের বাজারে এবার অনেকটাই নিরুৎসাহের ছবি ধরা পড়েছে।
