মালদা: স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বসার ঘরে ঢুকে এক মহিলা অশিক্ষক কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠল ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে (Pupil instructor conflict Malda)। মালদার বামনগোলা ব্লকের জগদলা হাই স্কুলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মারপিটের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন)। এই ঘটনায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা ইন্ধন জুগিয়েছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ করেছেন ওই আক্রান্ত মহিলা। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উলটো মহিলার বিরুদ্ধেই মারধরের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে গোটা বিষয়টি গড়িয়েছে থানা-পুলিশ পর্যন্ত।
দেড় বছর আগে জগদলা হাই স্কুলে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ওই মহিলা। অভিযোগ, শুক্রবার এক প্রাক্তন ছাত্রকে স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র (টিসি) দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। এরপরই ছাত্রছাত্রীরা স্টাফ রুমে ঢুকে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। ভাইরাল ভিডিয়োয় সেই ছবিও দেখা গেছে।
আক্রান্ত মহিলার দাবি, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (টিআইসি) অমিত হালদারের উস্কানি এবং প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই ছাত্রছাত্রীরা তাঁর গায়ে হাত তোলার সাহস পেয়েছে। তিনি বামনগোলা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, টিআইসি এর আগেও তাঁকে দিয়ে জোর করে অনৈতিক কাজ করানোর চেষ্টা করেছেন এবং স্কুলের নথিতে ছাত্রের নামের বানান ভুল থাকায় টিসি দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে হেনস্থা করা হয়। মিডডে মিল সহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে টিআইসি ও স্কুলের অন্য শিক্ষকরা যুক্ত বলে দাবি করে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন ওই মহিলা।
সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিত হালদার। তাঁর বক্তব্য, “ওই স্কুলে আমি ১৮ বছর ধরে চাকরি করছি এবং গত দু’বছর ধরে টিআইসি হিসেবে আছি। উনি কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ঠিকমতো কাজ করেন না। শুক্রবার এক ছাত্রকে টিসি দেওয়া নিয়ে বচসা হলে আমি তাঁকে সাধারণ নিয়মেই তা মিটিয়ে নিতে বলি। কিন্তু তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চড় মারেন। এরপরে আমি নিজের চেয়ারে এসে বসে পড়ি, বাইরে কী হয়েছে আমি কিছু জানি না।”
অমিতবাবুর আরও দাবি, পুলিশ প্রশাসনের কথা মতো তিনি যখন মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যান, তখন ওই মহিলা ও তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর করেন এবং রাস্তায় ফেলে দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির কোনো যোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, স্কুলের একজন মহিলা কর্মীকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের যে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসন তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং যিনি দোষী তাঁর কঠোর শাস্তি হোক। তবে এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন।

