উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মাঠের লড়াইয়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও, গ্ল্যামার আর অর্থের লড়াইয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL) এখনও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) চেয়ে আলোকবর্ষ দূরে। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে, ঋষভ পন্থের একার যা দর, তার অর্ধেক টাকা দিয়ে পাকিস্তানে আস্ত একটা দল গঠন করা সম্ভব। ৩ কোটি টাকা বাজেট বাড়িয়েও আইপিএলের ১৮ বছর আগের রেকর্ড ভাঙতে ব্যর্থ পিসিবি।
পন্থ বনাম পুরো পিএসএল দল
লখনউ সুপার জায়ান্টস তারকা ঋষভ পন্থকে ২৭ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ঘোষণা করেছে যে, আগামী মরসুমে পিএসএলের প্রতিটি দল ক্রিকেটার কেনার জন্য মোট ১৪ কোটি টাকা হাতে পাবে। অর্থাৎ:
• ঋষভ পন্থের বেতন: ২৭ কোটি টাকা।
• একটি পিএসএল দলের মোট বাজেট: ১৪ কোটি টাকা।
সহজ অঙ্কে, পন্থ একাই পাচ্ছেন একটি পিএসএল দলের মোট বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ টাকা।
১৮ বছর পিছিয়ে পাকিস্তান!
আশ্চর্যের বিষয় হল, ২০০৮ সালে আইপিএলের একদম প্রথম মরসুমে প্রতিটি দলের বাজেট ছিল ২০ কোটি টাকা। আগামী বছর পাকিস্তান সুপার লিগ ১১ বছরে পা দিলেও তাদের বাজেট (১৪ কোটি) আইপিএলের প্রথম বছরের বাজেটের চেয়েও কম। টাকার এই বিশাল পার্থক্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে কেন আইপিএলে ব্রাত্য বা অবসর নেওয়া ক্রিকেটারদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।
আকাশ-পাতাল ব্যবধান: এক নজরে পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান বলছে, পিএসএলের আটটি দলের মোট যে বাজেট (১১২ কোটি টাকা), তার চেয়েও বেশি টাকা নিয়ে আইপিএলের একটি মাত্র দল নিলামে নামে। আইপিএলের মোট অর্থের পরিমাণ পিএসএলের তুলনায় প্রায় ৯৭৩ শতাংশ বেশি।
ড্রাফট ছেড়ে নিলামের পথে
আগে পিএসএল ড্রাফট পদ্ধতিতে ক্রিকেটার নির্বাচন করলেও এবার থেকে আইপিএলের আদলে নিলাম পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। এতে ক্রিকেটারদের আয় কিছুটা বাড়লেও আইপিএলের বিশাল সাম্রাজ্যের সামনে যে তা সমুদ্রের এক বিন্দু জল মাত্র, সেকথা বলাই বাহুল্য।
