উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu)। দেশ ও বিদেশের সমস্ত ভারতীয়কে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে পদার্পণ করবে। তবে এদিনের ভাষণের অন্যতম ঐতিহাসিক দিক হলো, ইতিহাসে এই প্রথম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঠিক আগে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হয় এবং তারপরেই জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ বাজানো হয়। নিজের ভাষণে রাষ্ট্রপতি দেশভাগের ক্ষত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন।
স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ও দেশভাগের স্মরণ:
স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মাতৃভূমি পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছিল এবং স্বাধীন ভারতের ভাগ্য নির্মাণের দায়িত্ব নাগরিকদের হাতে এসেছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
১৪ আগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ হিসেবে পালিত হওয়ায় দেশভাগের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশভাগের সময় হিংসায় প্রাণ হারানো এবং ঘরছাড়া হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই দিনে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি, দেশের সংবিধান নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গড়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প:
দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, নারীদের শিক্ষায় দেশে নতুন নজির তৈরি হয়েছে। বিগত দিনে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। এ ছাড়া, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের মাধ্যমে দেশের ৮০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় বছরে সর্বাধিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রায় ৬০ কোটি মানুষকে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কিষান সম্মান নিধি এবং কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, পোলট্রি ও মৎস্যচাষিরা উপকৃত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সন্ত্রাসবাদ ও নকশাল দমন নিয়ে কড়া বার্তা:
জাতির উদ্দেশে ভাষণে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘‘সন্ত্রাসবাদী এবং তাঁদের মদতদাতারা বিশ্বের যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাঁদের পরিণতি ভুগতেই হবে।’’ পাশাপাশি, দেশকে নকশালমুক্ত করাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় জাতীয় সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের মাঝেও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাপ্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির গড় বৃদ্ধির তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
যুবসমাজ ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা:
দেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে যুবসমাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, দেশের তরুণ প্রজন্ম মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজছে। এমনকি সম্প্রতি মাত্র ২৮ বছর বয়সের একটি তরুণ দল সফলভাবে রকেট উৎক্ষেপণ করেছে, যা ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করেছে। পাশাপাশি, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় যাতে কোনো অনিয়ম না হয় এবং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করছে বলেও তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

