শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরার গোসাইপুরে আয়োজিত নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে (ninth Worldwide Santal Convention) যোগ দিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও আয়োজকদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu)। বুধবারের এই অনুষ্ঠান থেকে তিনি স্পষ্টত জানান, বাংলার সাঁওতালরা অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। একইসঙ্গে সম্মেলনের মান এবং প্রশাসনের অসহযোগিতা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিন নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন যে, আয়োজনের বহর দেখে এটিকে কোনোভাবেই ‘আন্তর্জাতিক মানের’ বলে মনে হচ্ছে না। অনুষ্ঠানের পরিকাঠামো এবং ব্যবস্থার ত্রুটি তাঁর নজর এড়ায়নি। রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সম্মেলনস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চেই উদ্যোক্তাদের এক শীর্ষকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন। অভিযোগ শোনার পর রাষ্ট্রপতি আক্ষেপের সুরে বলেন, প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণেই হয়তো এই ধরণের আন্তর্জাতিক সম্মেলন তার গরিমা হারাচ্ছে। এরপরই তিনি বাংলার সাঁওতাল সমাজের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “বাংলায় সাঁওতালরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।” রাজ্য সরকারের সক্রিয়তার অভাবেই যে এই অনগ্রসরতা, তা তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক প্রধানের মুখ থেকে সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এবং একটি নির্দিষ্ট জনজাতির অনগ্রসরতা নিয়ে মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাষ্ট্রপতির এই সফর যেখানে আদিবাসী সমাজের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাঁর এই কড়া অবস্থান নতুন করে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
