উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতিতে মহম্মদ সেলিম ও হুমায়ুন কবীরের সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ আলিমুদ্দিনের অন্দরে বড়সড় ফাটল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ভূমিপুত্র তথা দলের তরুণ তুর্কি প্রতীক উর রহমানের (Pratik Ur Rahaman) ‘বিচ্ছেদবার্তা’ বা পদত্যাগপত্র ঘিরে এখন উত্তাল সিপিএম। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, দলের এই তরুণ ও প্রান্তিক মুসলিম মুখকে ধরে রাখতে খোদ বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসুকে আসরে নামতে হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রতীক উর স্বীকার করেছেন যে, বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তাঁকে রাজ্য দপ্তরেও ডাকা হয়েছে। তবে এখনই যে বরফ গলেছে, তেমনটা বলা যাচ্ছে না। কারণ, মঙ্গলবার তিনি আলিমুদ্দিনে যাননি। আগামী কয়েকদিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকেও তিনি যাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। প্রতীক উরের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সেই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন।
সিপিএমের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে প্রতীক উর কেবল একজন নেতা নন, বরং এক শক্তিশালী প্রতীক। আর্থিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে উঠে আসা এই তরুণ নেতা এসএফআই-এর দু’বারের রাজ্য সভাপতি ছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে তাঁর লড়াই রাজ্য বাম মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। দক্ষিণবঙ্গের নেতারা মনে করছেন, যখন সংখ্যালঘু মুখ মহম্মদ সেলিম দলের রাজ্য সম্পাদক, সেই সময়ে প্রতীক উরের মতো লড়াকু ও প্রান্তিক মুসলমান যুবনেতার প্রস্থান বাঙালি মুসলিম সমাজে অত্যন্ত ‘ভুল বার্তা’ দেবে।
সিপিএমের অন্দরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে দল ক্রমেই ‘মধ্যবিত্ত মানসিকতা’র দখলে চলে যাচ্ছে। রামচন্দ্র ডোম, দেবলীনা হেমব্রম বা নিরাপদ সর্দারের মতো প্রান্তিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা হাতেগোনা কয়েকজন নেতার তালিকায় প্রতীক উর ছিলেন অত্যন্ত উজ্জ্বল নাম। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সইফুদ্দিন চৌধুরী, মইনুল হাসান কিংবা আব্দুস সাত্তারদের মতো সংখ্যালঘু নেতাদের দল ছাড়ার ইতিহাস সিপিএমকে বারবার বিড়ম্বনায় ফেলেছে। অতীতে মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম প্রধান জেলায় হিন্দু জেলা সম্পাদকের বিরোধিতা করার জন্য অনেককে ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা দেওয়া হলেও, শেষমেশ সেই মুর্শিদাবাদেই জামির মোল্লাকে জেলা সম্পাদক করতে হয়েছে সিপিএমকে।
প্রতীক উর আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছেন। দলত্যাগের জল্পনা উসকে দিয়ে একপক্ষ যেমন তাঁর ওপর স্নায়ুর চাপ তৈরি করছে, অন্যপক্ষ তেমনই তাঁকে দলের সম্পদ বলে দাবি করছে। এখন দেখার, বিমান বসুর মধ্যস্থতায় প্রতীক উরের ‘মানভঞ্জন’ হয় কি না, নাকি ২০২৬-এর আগে আরও এক নক্ষত্রপতন ঘটে মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে।
