উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : সোমনাথ মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ভারতের শাশ্বত চেতনার প্রতীক (Somnath Temple historical past)। কিন্তু স্বাধীনতার পর একশ্রেণীর মানুষের ‘দাস মানসিকতা’ এবং ‘তোষণের রাজনীতি’ এই মন্দিরের গৌরবময় ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। রবিবার গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে একটি নতুন বিশ্রাম গৃহের (গিলবার্ট হাউস) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)।
ইতিহাস ও বঞ্চনার অভিযোগ:
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, সোমনাথ মন্দির বারবার বিদেশী আক্রমণকারীদের দ্বারা ধ্বংস হয়েছে, লুন্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এই মন্দির ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠেছে। মোদীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পরেও কিছু মানুষ ইতিহাসের দিকে তাকিয়েছেন বিদেশী চশমা চোখে দিয়ে। তাঁদের ‘দাস মানসিকতা’ (Slave Mentality) এতটাই প্রবল ছিল যে, তাঁরা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে খাটো করে দেখেছেন। তিনি বলেন, “তোষণের রাজনীতির কারণে সোমনাথের ইতিহাস এবং এর পুনর্গঠনের গুরুত্বকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সত্যকে যেমন সূর্য দিয়ে ঢাকা যায় না, তেমনই সোমনাথের মহিমাও আড়াল করা যায়নি।”
সর্দার প্যাটেলের স্মরণ:
এদিন প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লৌহমানব’ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল (Sardar Patel) এবং কে এম মুন্সির অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মোদী স্পষ্ট জানান, যদি সর্দার প্যাটেল উদ্যোগী না হতেন, তবে আজ সোমনাথের এই দিব্য ও ভব্য রূপ দেখা হয়তো সম্ভব হতো না। তিনি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের কথাও উল্লেখ করেন, যিনি সোমনাথের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন অনেকের পছন্দ ছিল না।
বিকাশ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন:
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ (উন্নয়ন ও ঐতিহ্য) নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কাশী বিশ্বনাথ, কেদারনাথ, মহাকাল লোক এবং অযোধ্যার মতো তীর্থক্ষেত্রগুলির হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনছে। এর ফলে কেবল ধর্মীয় ভাবাবেগই রক্ষিত হচ্ছে না, বরং পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটছে। তিনি জানান, সোমনাথ ট্রাস্টের এই নতুন বিশ্রাম গৃহটি ভক্তদের যাত্রাকে আরও আরামদায়ক ও স্মরণীয় করে তুলবে।
