ফাঁসিদেওয়া: লাগাতার ছাত্রবিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হল প্রধান শিক্ষক সহ তিনজন শিক্ষককে। শুধু তাই নয়, আগামী সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে স্কুল। ঘটনাটি ফাঁসিদেওয়ার (Phansidewa) মুরালিগঞ্জ হাইস্কুলের। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই এক পার্ট-টাইম শিক্ষকের বিরুদ্ধে পড়ুয়া পেটানোর অভিযোগ এবং তাঁকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল স্কুলটিতে। উঠেছিল স্কুলের বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগও। এসব কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই স্কুলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এরই মাঝে সোমবার স্কুল চত্বরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন স্কুলের নবম ও একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে বাঁধে (Pupil Conflict)। সামান্য বচসা থেকে শুরু হওয়া এই হাতাহাতিতে অন্তত ৮ জন পড়ুয়া গুরুতর আহতও হয়েছে (Injured)। এদিকে, স্কুলের ভেতরেই এমন বিশৃঙ্খলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।
স্কুল চলাকালীন শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর এদিন প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা স্কুলের মূল গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্র থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নকশালবাড়ির এসডিপিও, সিআই এবং ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিধায়কের উপস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ তিনজন শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী সোমবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এপ্রসঙ্গে বিধায়ক দুর্গা মুর্মু জানান, স্কুলে কিছু ভুলত্রুটির কারণেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গোটা ঘটনার পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তরের জেলা পরিদর্শক (DI) পৃথক তদন্ত করবেন। সমগ্র বিষয়টি জানিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকেও চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

