উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে ফের জ্বালানির দামে আগুন। সোমবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় (Petrol Diesel Value Hike) সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিগত ১০ দিনে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি সাত টাকারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ খরচ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম—সবকিছুতেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সোমবার দিল্লিতে পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ২.৭১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের রাজধানী শহরে পেট্রলের নতুন দাম ১০২.১২ টাকা। ডিজেল সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫.২০ টাকায়।
কলকাতাতেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। লিটার প্রতি ২.৮৭ টাকা বেড়ে শহরে পেট্রলের নতুন দাম হয়েছে ১১৩.৫১ টাকা। লিটার প্রতি ২.৮০ টাকা বেড়ে ডিজ়েলের দাম কলকাতায় হয়েছে ৯৯.৮২ টাকা। এ ছাড়া, মুম্বইতে এক লিটার পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে ১১১.২১ টাকায়, দাম বেড়েছে ২.৭২ টাকা। চেন্নাইতে ২.৪৬ টাকা বৃদ্ধির পর এক লিটার পেট্রলের নতুন দাম ১০৭.৭৭ টাকা। মুম্বইতে ডিজ়েলের দাম বেড়েছে ২.৮১ টাকা। ৯৭.৮৩ টাকায় এক লিটার ডিজেল সেখানে পাওয়া যাচ্ছে। চেন্নাইতে ডিজেলের দাম ২.৫৭ টাকা বেড়ে প্রতি লিটারের নতুন দাম হয়েছে ৯৯.৫৫ টাকা।
প্রধান শহরগুলোতে নতুন দর: সোমবারের মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বড় শহরগুলোতে পেট্রল ও ডিজেলের নতুন দাম নিম্নরূপ:
- কলকাতা: পেট্রল প্রতি লিটার ১১৩.৫১ টাকা (+২.৮৭ টাকা), ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা (+২.৮০ টাকা)।
- দিল্লি: পেট্রল ১০২.১২ টাকা (+২.৬১ টাকা), ডিজেল ৯৫.২০ টাকা (+২.৭১ টাকা)।
- মুম্বই: পেট্রল ১১১.২১ টাকা (+২.৭২ টাকা), ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা (+২.৮১ টাকা)।
- চেন্নাই: পেট্রল ১০৭.৭৭ টাকা (+২.৪৬ টাকা), ডিজেল ৯৯.৫৫ টাকা (+২.৫৭ টাকা)।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ঘাটতিকে এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের তেল আমদানিতে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দাবি, এতদিন বেশি দামে তেল কিনে দেশের বাজারে দাম স্বাভাবিক রাখার ফলে তাদের প্রতিদিন প্রায় ১০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছিল। সেই ক্ষতি সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
পরিবহণ খরচ বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। জ্বালানির দামের সাথে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দুধ, রুটি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও এসেছে সরকারের তরফ থেকে।
যদিও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, দেশে জ্বালানির কোনো সার্বিক ঘাটতি নেই। বিভিন্ন জায়গায় যে দামের হেরফের দেখা যাচ্ছে, তা মূলত আঞ্চলিক চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্যহীনতার কারণে সাময়িক। তবুও, মূল্যবৃদ্ধির এই ধারায় সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
