বিশ্বজিৎ প্রামাণিক,পতিরাম: তেল পাম্পগুলিতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পেট্রোল-ডিজেল না দেওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন বাইক চালক থেকে চারচাকা মালিকরা। কোথাও প্রতি বাইকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, কোথাও ২৫০ টাকা পর্যন্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। চারচাকার ক্ষেত্রে তা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। লরির ক্ষেত্রে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকার। পতিরাম (Patiram), পাগলিগঞ্জ ও বোল্লা—এই তিনটি এলাকার পাম্পেই একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বাইক চালক বিশাল সাহা, সুজয় দাস ও সুপ্রিয় সাহারা জানান, দুইশো টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। গত তিনদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই তেল ভরাতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
অন্যদিকে, বাহিচার রিলায়েন্স পাম্প বা কুমারগঞ্জের মোহনা পেট্রোল পাম্পে এই ধরনের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছেন অনেকেই। ফলে কোথাও সঙ্কট, আবার কোথাও স্বাভাবিক সরবরাহ—এই বৈপরীত্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ।
তেল পাম্পের মালিক রুমু চৌধুরি ও বাদল কৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ‘উপরে কোম্পানি থেকে তেল কম দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কম করে তেল বিক্রি করতে।’ তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সাধারণ মানুষ। অনেকেরই ধারণা, ভোট পর্ব শেষ হলেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে, আর সেই আশঙ্কাতেই তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার কারণেও এই সঙ্কট হতে পারে বলে মনে করছেন।
জানা গেছে, পতিরাম পাম্পে একবারে ১৪-১৮ হাজার লিটার তেল আনা হলেও তা দেড় দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বোল্লা, মোহনা ও পাগলিগঞ্জ পাম্পে দুই থেকে তিনদিনে স্টক শেষ হচ্ছে। বর্তমানে ডিপো থেকে পাম্প গুলিতে তেল দেওয়ার দিনের ব্যবধানও বেড়ে গেছে।
তবে তেল পাম্প অ্যাসোসিয়েশনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সম্পাদক কাজল সরকার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, যেসব পাম্প মাসিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, তাদের এই মাসে কম তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের কারণে এই মাসে বিক্রি বেড়েছে, তাই নতুন মাস শুরু হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’
তবে কারণ যাই হোক, তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ চালু হওয়ায় বাইক চালক ও চারচাকা মালিকদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে এনে এই ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।
