পতিরাম: শীত মানেই বাঙালির খাদ্যতালিকায় নলেন গুড়ের বিশেষ কদর। সেই চিরাচরিত শীতের স্বাদকে এবার আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক রূপে তুলে ধরতে অভিনব উদ্যোগ নিল দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম সংলগ্ন মাঝিয়ানে অবস্থিত কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খেজুরের রস থেকে খাঁটি নলেন গুড় তৈরির পাশাপাশি তা অনলাইন ও বিভিন্ন শপিং মলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মাঝিয়ান কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র চত্বরে প্রায় সত্তর থেকে আশি বিঘা জমি রয়েছে। এই জমির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক ক্যানালের ধারে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাভাবিক নিয়মে জন্ম নিয়েছে বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ। একসময় এই গাছগুলি কেটে ফেলার কথাও ভাবা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে কর্তৃপক্ষ নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন—এই খেজুর গাছগুলির রস সংগ্রহ করে যদি খাঁটি নলেন গুড় তৈরি করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন সম্পদের সদ্ব্যবহার হবে, তেমনই তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মাঝিয়ান ক্যাম্পাসে মোট ১৫০টিরও বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে আপাতত ১০০টিরও বেশি গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই রস সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াকরণ করে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের নলেন গুড়। কোনও ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার না করায় এই গুড় স্বাদ ও গুণমান—দু’দিক থেকেই বাজারের প্রচলিত গুড়ের তুলনায় আলাদা বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রথমে পারদর্শী রস সংগ্রাহক ও কারিগরের খোঁজ করা হয়। উপযুক্ত লোক পাওয়ার পরই শুরু হয় উৎপাদন। বর্তমানে ৫০০ টাকা কিলো দরে এই খাঁটি নলেন গুড় বিক্রি হচ্ছে এবং তৈরির শুরুতেই সাধারণ ক্রেতা থেকে পাইকারি বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
মাঝিয়ান কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্প্রসারণ অধিকর্তা প্রভাত কুমার পাল জানান, ‘কেন্দ্রের অব্যবহৃত জমি ও খেজুর গাছের রসকে কাজে লাগিয়ে মূল্য সংযোজনের দিকেই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডঃ শিবানন্দ সিনহা জানান, ‘খুব শীঘ্রই এই খাঁটি নলেন গুড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন শপিং মলেও পাওয়া যাবে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
