বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামে (Patiram) প্রায় এক শতাব্দী ধরে পালিত হয়ে আসছে এক বিরল সম্প্রীতির উৎসব-বুড়ি কালীপুজো ও মাজারকেন্দ্রিক শিরনি উৎসবের মেলা। উত্তর রায়পুর অঞ্চলে আয়োজিত এই পুজো ও মেলা হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এক অন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম রবিবার বটুনের চামুণ্ডাপুজোর ঠিক পরের রবিবার পালিত হয় চামুণ্ডাপুজো, যার মুখা বহু বছর আগে ইছামতি নদীতে পান উপেন্দ্রনাথ পোদ্দার নামের এক ব্যক্তি। মুখাটি বর্তমানে শঙ্কু সাহার বাড়িতে সংরক্ষিত থাকলেও পুজো হয় গোপাল সাহার বাড়িতে। সোমবার ভোরে এই মুখা নিয়ে যাওয়া হবে বুড়ি কালীতলার মাসনাতলায়, যেখানে অনুষ্ঠিত হয় মাসনাপুজো। শোল মাছ ভাজা, পায়রা উৎসর্গ এবং ১২ রকমের ভাজা নিবেদন এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সোমবার রাতেই হবে বুড়ি কালীপুজো।
একইসঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ পাশের মাজারে ফল ও শিরনি নিবেদন করেন। যাকে তাঁরা বলেন, ‘শিরনি দেওয়া উরস’। মাজারের পাশেই রয়েছে শিবের মূর্তি ও একাধিক ঠাকুরের থান, যেখানে একসঙ্গে ষোলোটি পুজো হয়। পাশেই বড় মন্দিরে বুড়ি কালীপুজো হয়। মন্দিরের নীচে এখনও অনেক মানুষের খুলি পুঁতে রাখা রয়েছে। চামুণ্ডাপুজো ও মাসনাপুজোকে কেন্দ্র করে আগে মাথার খুলি নিয়ে গ্রাম ঘুরতেন পুজোর সঙ্গে যুক্ত সকলেই। তারপর সেই খুলি ফের পুঁতে রাখা হত। তবে এখন আর খুলি নিয়ে ঘোরার চল নেই।
হিন্দু ও মুসলিমদের এই দুই আয়োজনকে কেন্দ্র করেই অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনের মেলা। মেলার আয়োজক সদস্যদের মধ্যে বিশ্বনাথ সাহা ও কান্তিরঞ্জন সাহা জানালেন, এবারের মেলায় বাউলগানের আসর বসছে। শেষ দিনে তিন হাজার মানুষের জন্য খিচুড়ি ভোগের আয়োজন রয়েছে। এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং সম্প্রীতির নিদর্শন ও মানবিক মিলনের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
বুড়ি কালীপুজো ও মাজারকেন্দ্রিক এই উৎসব বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় ধর্মের পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ ও মিলনের আকাঙ্ক্ষা সকলেরই অভিন্ন।
