Panitanki land rip-off | পানিট্যাঙ্কিতে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারি! ফাঁসিদেওয়ার বিধায়কের অভিযোগে খড়িবাড়িতে গ্রেপ্তার তৃণমূলের শ্রমিক নেতা   

শিক্ষা
Spread the love


খড়িবাড়ি: অবশেষে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পানিট্যাঙ্কি জমি কেলেঙ্কারিতে (Panitanki land rip-off) বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মূর করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে মঙ্গলবার এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা মেচি মার্কেট ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হান্দ্রু ওঁরাওকে গ্রেপ্তার করল খড়িবাড়ি থানার পুলিশ। ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি এলাকায় সরকারি লিজের জমি জবরদখল ও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি সংক্রান্ত এই ঘটনায় প্রথম গ্রেপ্তারের জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সড়কের পাশে অবস্থিত বিতর্কিত সতীশচন্দ্র চা বাগানের জমি এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মেচি মার্কেট নিয়ে এর আগেও বহুবার সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এতদিন প্রশাসনিক স্তরে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না হলেও, গত ৮ আগস্ট ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু সরাসরি খড়িবাড়ি থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বিধায়কের অভিযোগ অনুযায়ী, মেচি মার্কেট ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিরা ২০২০ সালে গন্ডগোল মৌজার (জে.এল. নম্বর-০৩) এবং উত্তর রামধন মৌজার (জে.এল. নম্বর-০২) মোট ৭.৯২ একর সরকারি লিজভুক্ত জমি হাতিয়ে নেয় এবং শতাধিক ব্যক্তির কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি করে মেচি মার্কেট তৈরি করে। শুধু তাই নয়, লিজ বহির্ভূত অতিরিক্ত ৩.৬১ একর সরকারি জমিও অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি ভুয়া এগ্রিমেন্ট বা ফলস এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে। বিধায়ক তাঁর অভিযোগপত্রের সঙ্গে খড়িবাড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে সংগৃহীত ৪ আগস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভে রিপোর্টও (Memo no. 1126) প্রমাণ হিসেবে জমা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে মহকুমা পরিষদের পক্ষ থেকে জমি জরিপ করা হলেও সেই রিপোর্ট ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের পর বিধায়ক দুর্গা মুর্মু নিজেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন এবং তথ্য সংগ্রহ করে থানায় এফআইআর করেন। বিধায়কের এই সাহসী পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত গোপনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে খড়িবাড়ি থানা। দীর্ঘ এক সপ্তাহ তদন্তের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেচি মার্কেট ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হান্দ্রু ওঁরাওকে থানায় ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। খড়িবাড়ি থানা জানিয়েছে, ধৃতকে বুধবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি, এই গোটা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *