উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পানিহাটির একটি ২০০ বছরের পুরনো মন্দিরের প্রণামী বাক্সের টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথের বিরুদ্ধে (Panihati Temple Controversy)। মন্দির কমিটির সেবাইত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপও প্রকাশ্যে এসেছে।
শনিবার ছিল পানিহাটির ঐতিহাসিক দণ্ডমহোৎসব। অভিযোগ, উৎসবের আগের সন্ধ্যায় শেখর দেবনাথ কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে মহোৎসবতলা ঘাটের ওই মন্দিরে যান। মন্দির ও প্রণামী বাক্সের চাবির বিষয়ে জানতে চেয়ে তিনি সেবাইতকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মন্দিরের সমস্ত প্রণামী বাক্সের টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনা করতে। সেবাইত এর প্রতিবাদ করে জানান, বিধায়কের লিখিত নির্দেশ ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়। এই আপত্তির পরেই বিষয়টি আর এগোয়নি বলে জানা গেছে।
বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বংশপরম্পরায় তাঁদের পরিবারই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুজোর দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রণামীর টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোনার মতো অসাংবিধানিক আবদার মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি দাবি করেছেন। যদিও তিনি এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখর দেবনাথ। তিনি দাবি করেন, অডিওটি বিকৃত বা ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি মন্দিরের উন্নয়ন ও দানের অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোনার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” অন্য কেউ এমন কথা বলে থাকলে তার দায় তিনি নেবেন না বলেও জানিয়েছেন।
২০০ বছরের পুরনো এই মন্দির ঘিরে এই বিতর্কের জেরে স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বা বিধায়কের বাড়ির সঙ্গে মন্দিরের প্রণামীর যোগ কেন থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তীকালে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

