উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান। অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ (Panihati ex MLA’s son arrested)। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং লটারি প্রাপকের টাকা আত্মসাৎ ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণেশ্বর থেকে পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে। রাজ্যে পালাবদলের পরই প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেপ্তারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পানিহাটি এলাকায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তীর্থঙ্কর। অভিযোগ, ওই সময় এলাকায় ব্যাপক ভোট-পরবর্তী হিংসা ছড়ানো এবং বিরোধীদের ওপর চড়াও হওয়ার নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি এক লটারি বিজয়ীর কোটি টাকার টিকিট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। এরপর থেকেই তীর্থঙ্কর এলাকাছাড়া ছিলেন। তাঁকে ধরতে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সাহায্য নেয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। এই একই ঘটনায় পানিহাটির এক হোটেল মালিক সুশান্ত সরকারকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এবার মূল অভিযুক্তের শিকল গিয়ে পৌঁছাল প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্রের হাতে।
এদিকে, তীর্থঙ্করের বাবা তথা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরজি কর কাণ্ডের সময় পানিহাটির বিধায়ক থাকাকালীন নির্যাতিতার মৃতদেহ তড়িঘড়ি শ্মশানে দাহ করার নেপথ্যে তাঁর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। পুলিশের নজর এড়াতে দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও, সম্প্রতি ঋতব্রত শিবিরের একটি বৈঠকে তাঁকে দেখা গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি (Panihati) কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন তীর্থঙ্কর। কিন্তু আরজি কর নির্যাতিতার মা-র কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয়ের পরেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরতে শুরু করে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই পিতা-পুত্র এক ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছিলেন। তাঁদের আরও দাবি, আইন অনুযায়ী দ্রুতই বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার হতে হবে। প্রভাবশালীদের পতনে বর্তমানে পানিহাটিজুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। পুলিশি হেপাজত শেষে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

