উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিয়ের মণ্ডপ থেকে বিচ্ছেদের পথে— গত কয়েক মাসে স্মৃতি মান্ধনা ও পলাশ মুছলের সম্পর্কের রসায়ন বদলে গিয়েছে আমূল। কিন্তু রেশ কাটছে না। এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার স্মৃতির সমস্ত অস্তিত্ব মুছে ফেললেন সুরকার পলাশ মুছল। গত কয়েক দিনে যে ভাবে পলাশের দিকে একের পর এক অভিযোগের তির ধেয়ে এসেছে, তাতে এই ‘ডিজিটাল বিচ্ছেদ’ কি আসলে কোনো পাল্টা লড়াইয়ের শুরু?
মণ্ডপ থেকে হাসপাতাল, তার পরই বিপর্যয়
ঘটনাপ্রবাহের শুরু গত বছরের ২৩ নভেম্বর। গায়ে হলুদ শেষ হওয়ার পর বিকেলেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন স্মৃতির বাবা। থমকে যায় বিয়ের উৎসব। কিন্তু সেই ‘অসুস্থতা’র আড়ালে কি অন্য কোনো গল্প ছিল? মারাঠি ছবি প্রযোজক বিদ্যান মানে (Vidnyan Mane) সম্প্রতি এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের মণ্ডপেই পলাশকে অন্য এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হয়েছিল এবং সেই অপরাধে ভারতীয় প্রমিলা ক্রিকেট দলের সদস্যদের হাতে ‘প্রহৃত’ হতে হয়েছিল সুরকারকে।
পেশাদার জীবনেও ‘প্রতারণা’র ছায়া?
পলাশ যখন নতুন করে ছবি পরিচালনার মাধ্যমে কাজে ফেরার চেষ্টা করছেন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার মামলা ঠুকেছেন বিদ্যান মানে। তাঁর দাবি, পলাশের নতুন ছবিতে বিনিয়োগ করেও লভ্যাংশ বা ফেরত— কিছুই মেলেনি। তবে পলাশও দমে যাওয়ার পাত্র নন। নিজের সম্মান রক্ষায় বিদ্যান মানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন তিনি। পলাশের আইনজীবীর দাবি, প্রমাণহীন এই অভিযোগগুলো কেবলই তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা।
অতীত যখন শুধুই ‘অ্যালবাম’
দীর্ঘদিন যাবৎ পলাশের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ছিল স্মৃতির গ্যালারির মতো। বিচ্ছেদের ঘোষণার পরও সেই সব ছবি তিনি যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এই আইনি জটিলতা এবং ‘প্রতারক’ তকমা পাওয়ার পর সুরকার সম্ভবত কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। রবিবার তাঁর প্রোফাইল থেকে স্মৃতি মান্ধনার জন্মদিনের পোস্ট, প্রেম প্রস্তাবের ভিডিও বা দিওয়ালির যুগল ছবি— সবই এক নিমেষে উধাও।পলাশ কি নিজের জীবন থেকে স্মৃতিকে মুছে ফেলে নতুন শুরুতে সফল হবেন, নাকি বিতর্কের এই ছায়া তাঁর পিছু ছাড়বে না? উত্তর দেবে সময়।
