উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার ফল হারে হারে বুঝতে পারছে পাকিস্তান (Pakistan)। ধীরে ধীরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে পাকিস্তানে। বেশ কিছুদিন আগে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের (Afghanistan) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তারপর থেকে ওই দুই দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানিও বন্ধ।
এজন্য পাকিস্তানে ক্রমেই দাম বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম পৌঁছেছে ভারতীয় মুদ্রায় ৬০০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত এই দাম ছিল ১০০ টাকা। রসুন ৪০০ টাকা কেজি, আদা ৭৫০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি এবং মটর ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও পাকিস্তানের বাজারে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ আপেল আসে আফগানিস্তান থেকে। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় এখন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। ফলে আপেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। আঙুর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, একটি নারকলের দাম ৪০০ টাকা এবং ডালিম বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে।
কাবুলে পাক-আফগান চেম্বার অফ কমার্সের প্রধান খান জান আলোকোজ়ে জানান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রতিবছর ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিনিস আমদানি-রপ্তানি হয়। প্রতিদিন টাটকা শাকসব্জি ও ফলের ৫০০ কন্টেনার আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সীমান্ত বন্ধ থাকায় বাণিজ্যও বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই দুই দেশের কমবেশি ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
তোরখাম বর্ডারের এক পাকিস্তানি আধিকারিক জানালেন, বর্ডারের দু’পাশের রাস্তার ধারে আটকে থাকা ট্রাকগুলিতে প্রায় ৫,০০০ পণ্যবাহী কন্টেনার রয়েছে।
যদিও কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এখন যুদ্ধ বিরতি হলেও স্থল সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। ২৫ অক্টোবর ইস্তানবুলে দুই দেশের মধ্যে ফের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও সমাধান সূত্র মিলবে কি না সেটাই এখন দেখার।
