উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে খাদের কিনারায় পাকিস্তানের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতেই সেদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার একগুচ্ছ নতুন ব্যবস্থার ঘোষণা করল পাকিস্তান সরকার। স্কুল বন্ধ রাখা থেকে শুরু করে সরকারি অফিসে কাজের দিন কমিয়ে আনা—সব মিলিয়ে কার্যত এক অঘোষিত লকডাউনের পথে হাঁটল ইসলামাবাদ!
জ্বালানি বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ
সূত্রের খবর, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, জ্বালানি খরচ কমাতে সরকার নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে:
• স্কুল-কলেজ বন্ধ: চলতি সপ্তাহ শেষ হতেই পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল টানা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্লাস হবে শুধুমাত্র অনলাইনে।
• অফিসের সময়সূচী: ব্যাংক বাদে সমস্ত সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চারদিন খোলা থাকবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
• বরাদ্দে কাটছাঁট: আগামী দুই মাস সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে।
রেকর্ড হারে বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম
জ্বালানি সংকটের জেরে গত শনিবার পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম একধাক্কায় ৫৫ পাকিস্তানি রুপি (PKR) বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমানে পাকিস্তানে পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। অন্যদিকে, হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটারে ৩৩৫.৮৬ রুপি।
আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিকের কথায়, “প্রতিবেশী দেশে লাগা আগুন এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংকট কতদিন চলবে, তা আমাদের কারোরই জানা নেই।”
অন্ধকারে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ!
রবিবার পাক প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। এর আগে হাইব্রিড কাজের সংস্কৃতি এবং স্কুল বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চরম মুদ্রাস্ফীতির মাঝে তেলের এই অভাব পাকিস্তানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
