কল্লোল মজুমদার ও বিধান ঘোষ, মালদা ও হিলি: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতির আবহে, এবার ভারতের পেঁয়াজ আমদানি (Onion import) বন্ধ করল বাংলাদেশ (Bangladesh)। ফলে মালদা (Malda) ও দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার গোডাউনগুলিতে পচে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ। দুই জেলার সীমানায় এখন প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তবে রপ্তানিকারকদের দাবি, ৫ টাকা কিলো দরেও পেঁয়াজ মেওয়ার লোক নেই।
দুই জেলার স্থলবন্দর মহদিপুর ও হিলি থেকে একসময় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লরি পেঁয়াজ রপ্তানি হত বাংলাদেশে। মূলত এই পেঁয়াজ আসত মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে। প্রতিবছরের মতোই তাই রপ্তানি আশায় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এই বছর বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায়, ভারতের পেঁয়াজ কেনার আগ্রহ হারিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এখনও পেঁয়াজের আমদানি সংক্রান্ত নথিতে সই করেনি বাংলাদেশ।
এই নিয়ে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ রপ্তানিকারক নুর হাসান মণ্ডল বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ পেঁয়াজ কিনবে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশের আমদানিকারকরা। সেই মতো মহারাষ্ট্র থেকে দুই লরি পেঁয়াজ আনিয়ে রেখেছিলাম। তারপর এতদিন কেটে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে গত ২৫ তারিখ রায়গঞ্জ ও বিহারে পেঁয়াজ পাঠিয়েছি।’ তাতেও ৬ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে, প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাঁর। বাংলাদেশে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে এবং সেখানে এখন পেঁয়াজের পাইকারি দর ১০০ টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জেরেই এপারের রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি সংস্থাগুলির পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর দাবি।
গত ১৬ নভেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশের সোনা মসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) দেওয়ার জন্য পেঁয়াজের আইপি বা আমদানির পরিমাণ বেঁধে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিল বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধি দপ্তর। তবে বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকজনকে ৫০ মেট্রিক টন করে আইপি দেওয়া হয়। পরে আরও কয়েকজনকে ৩০ মেট্রিক টনের পারমিট দেওয়া হলেও দেশের কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কায় প্রায় দুই সপ্তাহ আইপি ইস্যু করা বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। প্রচুর পরমাণ আমদানিকারকের আইপি’র আবেদন এখনও আটকে আছে বলে জানা গিয়েছে।
এই নিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কমিটির রাজ্য সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘নিজের দেশের ফলনের কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকার হঠাৎ করে পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ তাদের তরফে পেঁয়াজ আমদানির কথা জানানো হয়েছিল। মহদীপুর সংলগ্ন গোডাউনে এখন প্রচুর পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যেই ঢাকার ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সে অভিযোগ জানিয়েছি।’
