কোচবিহার: বুধবার রাতে কোচবিহার শহরের বকসিবাড়ি এলাকায় এক ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু হল পেশায় নার্স এক মহিলার (Nurse Demise Case)। মৃতের নাম ছন্দা রায় (৩৫)। শরীরের সিংহভাগ পুড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তাঁর স্বামীও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। অস্বাভাবিক এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় রহস্য দানা বেঁধেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছন্দা রায় আদতে শিলিগুড়ির বাসিন্দা হলেও গত কয়েক বছর ধরে কোচবিহারের ‘মাতৃমা’ নার্সিংহোমে কাজ করতেন। বকসিবাড়ি এলাকায় দেবজিৎ বর্মার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। বুধবার রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নটা নাগাদ ডিউটি শেষ করে বাজার নিয়ে ঘরে ঢুকছিলেন ছন্দা দেবী। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই আচমকা তাঁর শরীরে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করেন তিনি। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
বাড়ির মালিক জানান, ছন্দা দেবীর এক মেয়ে বাইরে পড়াশোনা করে। তাঁর স্বামী সাধারণত এখানে থাকতেন না, তবে মাঝেমধ্যে আসতেন। বুধবার ঘটনার সময় তাঁর স্বামী বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে বা অন্য কোনও কারণে তাঁর শরীরেরও বেশ কিছুটা অংশ পুড়ে যায়। বর্তমানে তিনি কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘরে ঢোকার মুখেই কীভাবে একজন মহিলার শরীরে এভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা না কি এর পিছনে স্বামীর কোনও ভূমিকা রয়েছে— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রতিবেশী গোপা রায় জানান, “খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি তখনও মহিলার শরীর থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। এমন ঘটনা ভাবাই যায় না।” পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
