উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চরম কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং গত বছরের সামরিক সংঘাতের রেশ বজায় থাকলেও, তিন দশকের পুরনো প্রথা ভাঙল না ভারত ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে দুই প্রতিবেশী দেশ নিজেদের পরমাণু স্থাপনার তালিকা (Nuclear Installations Record) বিনিময় করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের হেপাজতে থাকা বন্দি ও মৎস্যজীবীদের তালিকাও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে একে অপরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৮৮ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ‘প্রহিবিশন অফ অ্যাটাক অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইনস্টলেশনস’ চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও কোনও দেশ অন্যের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালাতে পারবে না। ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছর ১লা জানুয়ারি এই তালিকা বিনিময় বাধ্যতামূলক। এটি ছিল টানা ৩৫তম বিনিময়। পরমাণু তালিকার পাশাপাশি ২০০৮ সালের কনস্যুলার অ্যাক্সেস চুক্তি মেনে বন্দিদের তালিকাও শেয়ার করা হয়েছে।এই তালিকা অনুযায়ী ভারতের হেপাজতে ৩৯১ জন পাকিস্তানি নাগরিক এবং ৩৩ জন মৎস্যজীবী রয়েছে।পাকিস্তানের হেপাজতে রয়েছে ৫৮ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ১৯৯ জন মৎস্যজীবী।
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, ১৬৭ জন ভারতীয় (যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে) যেন দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া নিখোঁজ ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মীদের সন্ধান এবং ৩৫ জন নতুন বন্দিকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোয় ভারতের সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে তিক্ত হয়েছে। এমনকি সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার মতো কড়া পদক্ষেপও নিয়েছে ভারত। তবে সম্প্রতি ঢাকায় প্রাক্তন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিকের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতার পর এই তালিকা বিনিময় ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
