NJP | দিদাকে লজে ফেলে রেখে উধাও নাতি

NJP | দিদাকে লজে ফেলে রেখে উধাও নাতি

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: কাপড় দিয়ে প্যাঁচানো মাদার মেরির ছোট্ট মূর্তি এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে লাঠিতে ভর দিয়ে অশীতিপর এক মহিলা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এনজেপি থানায় ঢুকছিলেন। পাশে হাতে দুটো ব্যাগ নিয়ে হাঁটছিলেন এক তরুণ। থানার গেটের পাশে বানানো টিনের ছাউনি দেওয়া সিমেন্টের স্ল্যাবের ওপর কোনওরকমে বসে সেই বৃদ্ধা হাঁফাতে শুরু করেন। পাশে মেরির মূর্তি রেখে কোনওরকমে চোখের জল মুছছিলেন।

কী হয়েছে? বৃদ্ধার সঙ্গে থাকা এনজেপি স্টেশন (NJP) সংলগ্ন ভক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা দেবজিৎ কুণ্ডু বললেন, ‘বৃদ্ধার চিকিৎসা করাবেন বলে তাঁকে নিয়ে নাতি সিকিম থেকে এখানে এসেছিলেন। দুজনে এনজেপিতে আমাদের লজে উঠেছিলেন। পরে নাতি বৃদ্ধাকে ছেড়ে চলে যান। তারপর ২০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। ফোন করলেও আসছেন না। ঘরভাড়াও মেটাচ্ছেন না। কী করব বুঝতে না পেরে বৃদ্ধাকে নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছি।’ শুনতে শুনতে বছর ৮১-র শোভা রিতা গুরুংয়ের দুই চোখ জলে আরও ভরে ওঠে, ‘যে নাতিকে আমার সঙ্গে ছোট থেকে রেখে কোলেপিঠে মানুষ করলাম, সে-ই আমাকে শেষ জীবনে এসে একা ফেলে চলে গেল। আমার কাছে কিছু খাওয়ার বা কোথাও থাকার টাকাও নেই। তবে মেয়ে বা নাতি কারও কাছেই ফিরে যেতে চাই না।’

লজের মালিক ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডুও শনিবার বৃদ্ধার সঙ্গে থানায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ‘ঘরের ভাড়া, খাওয়ার খরচ মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা বিল হয়েছে। যার মধ্যে চার হাজার টাকায় আমাদের দেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধা আমার মায়ের মতো। তাই বাকি টাকা আমার প্রয়োজন নেই। সিকিমের ঠিকানা দিতে বৃদ্ধার নাতিকে বলেছিলাম। তাহলে বৃদ্ধাকে সেখানে পাঠিয়ে দিতাম। কিন্তু ওই ব্যক্তি সেই ঠিকানা দিতে চায়নি।’

ওই বৃদ্ধা জানালেন, কলকাতার তিলজলাতে তিনি ঘরভাড়া নিয়ে থাকতেন। স্বামী প্রেম গুরুং ৪০ বছর আগে মারা গিয়েছিলেন। নাতি বিশাল ড্যানিয়েল তামাংকে ছোট থেকে ওই বৃদ্ধা মানুষ করেছেন। সঙ্গে ড্যানিয়েলের মা ওই ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। কিন্তু এক বছর হল বৃদ্ধার মেয়ে সেই বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় অন্য বাড়িতে চলে গিয়েছেন। এদিকে, ড্যানিয়েল সিকিমে বিয়ে করেন। তাঁর মা অন্য বাড়িতে চলে যাওয়ার পর কলকাতা থেকে এক বছর আগে তিনি দিদাকে নিয়ে সিকিমে চলে যান। সেখানে পারিবারিক সমস্যা হয়। সেই সূত্রেই তিনি চিকিৎসার নামে বৃদ্ধাকে শিলিগুড়িতে এনে এনজেপির লজে রেখে উধাও হয়ে গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। লজ মালিকের ছেলে দেবজিৎ বলেন, ‘বৃদ্ধার নাতি ড্যানিয়েল তিনদিনের জন্য যাওয়ার কথা বলে গিয়েছিল। কিন্তু ২০ দিন পার হয়ে গেলেও তিনি ফিরে আসেননি। ফোন করলেও তিনি আসতে চাননি। আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হতে চলেছি বলে তাঁকে জানিয়েছিলাম। তিনি উলটে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করার হুমকি দিয়েছেন।’

ড্যানিয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘দিদাকে পরিবারে রাখার পর থেকে বারেবারে তিনি অন্তর্কলহ তৈরি করেছেন। আমি নিজে মানসিক রোগী। শিলিগুড়িতে দিদাকে কোনও হোমে রাখার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।’ এদিকে, গোটা বিষয়টি জানিয়ে লজ কর্তৃপক্ষ শনিবার এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বৃদ্ধাকে পাকাপাকিভাবে কোথাও রাখার ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়। বৃদ্ধাকে একটি হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *