প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বাদুড়বাহিত মারণ ভাইরাস ‘নিপা’ (Nipah Virus) থাবা বসালো রাজ্যে। প্রতিষেধকহীন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের এক তরুণী নার্স বর্তমানে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ মোট ৬০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই নার্স বারাসাতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কর্মরত ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেই সময় তাঁর সংস্পর্শে আসেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের একধিক চিকিৎসক ও অন্যনায় স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়াও নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে তাঁর সংস্পর্শে আসা ১৮ জন ব্যক্তি। সংস্পর্শে এসেছেন আক্রান্তের বাবা, মা ও ভাই এবং অ্যাম্বুল্যান্স চালক। শনাক্ত হওয়া এমন ৬০ জনকেই আগামী ১৪ থেকে ২১ দিন বাড়িতে কড়া নিভৃতবাসে (Isolation) থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এইমসে (AIIMS) পাঠানো হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়িয়ে বর্ধমান মেডিক্যালের এক নার্সের শরীরেও নিপা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বুধবার তাঁকে মেমারি থেকে এনে বর্ধমান মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও এক স্বাস্থ্যকর্মীকে বেলেঘাটা আইডিতে গিয়ে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের উৎস ও গতিবিধি বুঝতে পুলিশের সাহায্য নিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
আক্রান্ত নার্সের মা, যিনি নিজেও একজন স্বাস্থ্যকর্মী, জানান যে গত ২৫ ডিসেম্বর থেকেই মেয়ের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। অসুস্থতা নিয়েই ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বারাসাতে কাজ করেন তিনি। ২ জানুয়ারি বাড়ি ফিরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁকে কাটোয়া ও পরে বর্ধমান মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) জয়রাম হেমব্রম জানান, “আক্রান্তের সংস্পর্শে আসাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। সকলকে নিভৃতবাসে থাকার পাশাপাশি প্রতিদিন ফোনে তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
