উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পাঁচ মাস আগে নিকোলাস মাদুরোর (Nicolas Maduro) গ্রেপ্তারি চেয়ে পুরস্কার বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (US President Donald Trump) কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন মাদুরো। তিনি বলেছিলেন বলেছিলেন, “আসুন না, তুলে নিয়ে যান দেখি!” শুক্রবার গভীর রাতে ঠিক তা-ই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা ও হুমকি-পাল্টা হুমকির অবসান ঘটল এক ঝটিকা সামরিক অভিযানে। শোওয়ার ঘর থেকে মাদুরো এবং স্ত্রীকে অপহরণ এবং বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে গেল মার্কিন বিশেষ বাহিনী। গভীর রাতের এই অভিযান কেবল ভেনেজুয়েলা (Venezuela) নয়, স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। বর্তমানে মাদুরো নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন (Brooklyn) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গত বছর আগস্টে মাদুরো দর্পভরে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “আসুন, মিরাফ্লোরেসে (Miraflores) আমি অপেক্ষা করছি, সাহস থাকলে তুলে নিয়ে যান!” ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাদুরোর সামনে সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। তারই পরিণতি এই বন্দিদশা।
কেন এই চরম পদক্ষেপ? ওয়াশিংটনের দাবি, সর্বশেষ নির্বাচনে ব্যাপক রিগিং করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন বামপন্থী মাদুরো। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অভিযোগ—মাদুরো সরকার আন্তর্জাতিক মাদক চক্র পরিচালনা করছে এবং আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসী পাঠিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। মূলত আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থেই এই ক্ষমতা বদল অনিবার্য ছিল বলে দাবি করছে হোয়াইট হাউস।
বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াইয়ের মূলে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ তেলের ভাণ্ডার। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও জলযানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মাদুরোর দাবি ছিল, আমেরিকা আসলে তাঁর দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করতে চায়। এর মধ্যেই মাদুরোর নেতৃত্বাধীন সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিয়ে নিউ ইয়র্কের ফেডেরাল আদালতে তাঁর বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই ঘটনার পর বিশ্ব রাজনীতি কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে রাশিয়া, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হামলা হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে আমেরিকা একে ‘গণতন্ত্র উদ্ধার’ ও ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ হিসেবে তুলে ধরছে। ভেনেজুয়েলার ভাগ্য এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল।
