NH 17 Growth | ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক চার লেনে রূপান্তরের তোড়জোড়! ছড়াল উচ্ছেদ আতঙ্ক

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: বীরপাড়া থেকে ফালাকাটা দুই লেনের ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH 17 Growth) কি তবে চার লেনে রূপান্তর হতে চলেছে? মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি টেন্ডার নোটিশ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডুয়ার্সজুড়ে। বীরপাড়া-ফালাকাটা পর্যন্ত ২৫.৫ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে সম্প্রসারণের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ডিটেলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) ও সমীক্ষার জন্য কনসালটেন্সি সংস্থা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। বুধবার এখবর চাউর হতেই ফালাকাটা, জটেশ্বর ও বীরপাড়ার কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছেদ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সামনেই শারদোৎসব, তার মুখে রুটিরুজিতে টান পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে ব্যবসায়ী মহল। জাতীয় সড়কের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন-১০’এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জিতেন্দ্র প্যাটেল বলেন, ‘বীরপাড়া-ফালাকাটা রাস্তার সমীক্ষা ও ডিপিআর তৈরির স্বার্থে কনসালটেন্সি সংস্থা নিয়োগের টেন্ডার ডাকা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, বাকি সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেবে।’

জাতীয় সড়কের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন-১০ সূত্রে খবর, এই বিভাগের অধীনে বীরপাড়া চৌপথি থেকে কোচবিহারের বক্সিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা রয়েছে। তার মধ্যে বীরপাড়া-ফালাকাটা অংশটিকে চার লেনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে ফালাকাটা ও জটেশ্বর শহর এই রাস্তার দু’ধারে গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে ফালাকাটা শহরের মিল রোড থেকে ধূপগুড়ি মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

২০১৭ সালে সাবেক ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারিত হয়ে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে পরিণত হয়। সেই সময় রাস্তা দুই লেন করার জন্য ফালাকাটা ও জটেশ্বরে বহু প্রাচীন গাছ কাটার পাশাপাশি অসংখ্য দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেকে ব্যবসা হারিয়ে নিঃস্ব হন, আবার অনেকে ক্ষতি সামলে কোনওমতে দোকান ছোট করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। সেই ক্ষতের দাগ এখনও ব্যবসায়ীদের মনে দগদগে। মাত্র ন’বছরের মাথায় ফের রাস্তা চার লেন করার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় অস্তিত্বসংকটে পড়েছেন তাঁরা।

ফালাকাটার (Falakata) প্রবীণ ব্যবসায়ী বাপি সাহার ক্ষোভ, ‘ন’বছর আগেই রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে আমাদের দোকানের অর্ধেক ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এখন শুনছি আবার রাস্তা চার লেন হবে। নতুন করে দোকান ভাঙা পড়লে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’

ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রানা চৌধুরী ও সম্পাদক আনন্দ সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও তাঁদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে এলাকার উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনই হাজার হাজার ব্যবসায়ীর স্বার্থ ও রুটিরুজি যাতে বিপন্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে তাঁরা সমস্ত প্রশাসনিক স্তরে কথা বলবেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *