রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: স্বর্গভূমি এবং রাজভূমি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট। রাজ্য বাজেটে এই দুইয়ের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পর্যটন মহল স্বপ্নে মশগুল। উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই দুটি পর্যটন সার্কিট (New Tourism Circuits in North Bengal) বাস্তবায়ন হলে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় তো বটেই, শিলিগুড়ি সহ সমতলের অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। এছাড়া মিটিংস, ইনসেন্টিভ কনফারেন্সেস অ্যান্ড এগজিবিশনস বা মাইস নিয়েও উত্তরবঙ্গের জন্য ঘোষণায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা খুশি। এই অঞ্চলে মাইস পর্যটন ব্যবস্থা চালু হলে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তাঁরা মনে করছেন। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের বণিক মহলও রাজ্য বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ করেন। সেখানে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের উন্নয়নে দুটি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট এবং শিলিগুড়ি (Siliguri), দার্জিলিং পাহাড় এবং ডুয়ার্সকে কেন্দ্র করে মাইস পর্যটনের কথাও বলা রয়েছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যালের বক্তব্য, ‘ভালো বাজেট হয়েছে। আমরা এখানে দুটি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট পাচ্ছি। দার্জিলিং এবং তরাইকে নিয়ে স্বর্গভূমি সার্কিট এবং সমতলে সম্ভবত কোচবিহার এবং ডুয়ার্সকে ঘিরে রাজভূমি সার্কিট হবে। এর বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে আমূল উন্নয়ন সম্ভব।’
শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরি হচ্ছে। পাহাড়েও এমন প্রচুর মন্দির ও ধর্মীয় স্থান রয়েছে। সেগুলিকে সঠিকভাবে সাজিয়ে তুলতে পারলে মানুষ উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে (North Bengal Tourism) আরও আপন করে নেবে বলে সম্রাটের দৃঢ় ধারণা। তাঁর কথায়, ‘শিলিগুড়িকে যে পর্যটকরা শুধুমাত্র ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করেন, সেই পর্যটকরাও এখানে এসে দু’রাত থাকতে বাধ্য হবেন।’ পর্যটনের উন্নয়নে রাজ্যের ঘোষণাকে ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন (এতোয়া) স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের উপদেষ্টা সন্দীপন ঘোষ বলেছেন, ‘এই বাজেটে আমরা খুশি। ডোমেস্টিক পর্যটনের কথা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে দুটি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটও তৈরি হচ্ছে। এটা হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন অন্য মাত্রা পাবে।’
রাজ্য বাজেটে উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং সমতলকে ঘিরে চারটি জায়গায় মাইস ট্যুরিজম সার্কিট তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর অঙ্গ হিসাবে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে একটি কনভেনশন সেন্টার তৈরির ঘোষণা হয়েছে। অদূরভবিষ্যতে ডুয়ার্সেও একটি কনভেনশন সেন্টার তৈরি হবে। পাশাপাশি এখানে মাইস ট্যুরিজমের অধীনে বিবাহ, বিভিন্ন গোষ্ঠীর বড় আকারের মিটিংয়ের ব্যবস্থা সহ সমস্ত আয়োজনই থাকবে।
রাজ্য বাজেট নিয়ে বণিক মহলও খুশি। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের (সিআইআই) উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকার বক্তব্য, ‘পর্যটন সহ সামগ্রিকভাবে রাজ্যের বাজেট ভালো হয়েছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে রাজ্যে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। টি ট্যুরিজম প্রকল্পে রাজ্য এবারও জোর দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ৩৪টি টি ট্যুরিজম প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিয়েছিলাম। ইতিমধ্যেই দার্জিলিংয়ে ১১টি, জলপাইগুড়িতে দুটি এবং কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে একটি করে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।’ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও শিলিগুড়িতে নতুন পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে। সেটিও ইতিবাচক দিকে বলে সতীশ জানিয়েছেন।
