উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার (NEET-UG Retest) দিন বিহারের (Bihar) লক্ষ্মীসরাইতে এক বড়সড়ো প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ (Dishonest Racket)। পরীক্ষার হলে আসল পরীক্ষার্থীর বদলে ‘সলভার’ বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী (Proxy Rip-off) বসিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে মোট ২৪ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একাধিক মেডিকেল ও নার্সিং পড়ুয়া এবং বায়োমেট্রিক কোম্পানির কর্মীরাও রয়েছেন।
চলতি বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের জেরে বাতিল হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তে রবিবার পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করেছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। অভিযোগ, এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিল প্রতারক চক্র। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গয়ার এএনএম মেডিকেল কলেজের ছাত্র অর্পিত রাজ এই চক্রের অন্যতম মূলহোতা। উল্লেখ্য, অর্পিত এর আগেও নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পাটনা মেডিকেল কলেজের (পিএমসিএইচ) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মায়াঙ্ক কাশ্যপকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে। তিনি বায়োমেট্রিক কোম্পানির কর্মী সেজে হাসানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকেছিলেন। তাঁকে জেরা করেই লক্ষ্মীসরাইয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে অভিযান চালায় পুলিশ। এই অভিযানে সাত পরীক্ষার্থী সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আটককৃতদের তালিকায় রয়েছেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং পড়ুয়া পুনম কুমারী, এইমস রায়বরেলির ছাত্র সৌরভ ঝা এবং শাহদারা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন আমন আগরওয়াল। পরীক্ষার সময় মেডিকেল কলেজগুলিতে পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, অনেকে অসুস্থতার অছিলায় বা মিথ্যে অজুহাতে বেরিয়ে এই চক্রে শামিল হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
এই চক্রের শিকড় কত গভীরে এবং এর পেছনে আরও বড় প্রভাবশালী কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে বিহার পুলিশ। পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় নেওয়া সমস্ত সতর্কতা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

