উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আজ তিনি বি-টাউনের প্রথম সারির সুপারস্টার। তাঁর প্রতিটি ছবি বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে। কিন্তু বর্তমানের এই বিলাসবহুল জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চরম সংগ্রামের ইতিহাস। অভিনেতা শাহিদ কপূরের (Shahid Kapoor) শৈশব যে কতটা কণ্টকাকীর্ণ ছিল, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণার স্মৃতি উসকে দিলেন তাঁর মা নীলিমা আজিম (Neelima Azeem)।
নীলিমা জানান, অভিনেতা পঙ্কজ কপূরের (Pankaj Kapur) সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। হাতে ছিল মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। সেই সামান্য পুঁজি সম্বল করেই ভাগ্যান্বেষণে মায়ানগরী মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। নীলিমার কথায়, সেই সময়টা ছিল তাঁর জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায়। মুম্বইয়ের মতো শহরে একা মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজা আর কাজ জোগাড় করা— লড়াইটা ছিল পাহাড়প্রমাণ।
আর্থিক অনটন ও আশ্রয়ের অভাবে ছোট্ট শাহিদকে দিল্লিতে তাঁর দাদু-দিদার কাছে রেখে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন নীলিমা। বুক ফেটে গেলেও কেরিয়ারের স্বার্থে এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাঁকে। পরে মুম্বইয়ে পায়ের তলায় মাটি শক্ত হওয়ার পর শাহিদকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন তিনি।
শাহিদ বড় হয়েছেন মায়ের এই অক্লান্ত পরিশ্রম দেখে। ছোটবেলা থেকেই অভাব এবং সংগ্রাম তাঁকে শিখিয়েছে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। নীলিমা আজিম গর্বের সঙ্গে জানান, মায়ের সেই লড়াই খুব কাছ থেকে দেখেছেন বলেই শাহিদ আজ এত বেশি পরিশ্রমী এবং আত্মনির্ভর।
বর্তমানে শাহিদ কপূর বলিউডের অন্যতম ‘দামী’ অভিনেতা। ‘জব উই মেট’, ‘কবীর সিং’ থেকে শুরু করে ‘পদ্মাবত’— একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। তবে সাফল্যের শিখরে বসেও শাহিদ ভোলেননি তাঁর ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। অভিনেতা বারবারই স্বীকার করেছেন যে, আজ তিনি যা কিছু, তার সবটাই তাঁর মায়ের অদম্য জেদ আর ত্যাগের ফসল।
শাহিদ ও নীলিমার এই কাহিনী নতুন করে প্রমাণ করল যে, রুপোলি পর্দার জৌলুস যেমন থাকে, তার নেপথ্যে অনেক সময় রক্ত জল করা পরিশ্রমের এক অন্য বাস্তবও লুকিয়ে থাকে।
